ইউটিউব তারকা মিস্টারবিস্ট ঘানায় প্রায় ১ কোটি ডলার খরচ করে একটি পুরো গ্রাম তৈরি করেছেন। তার আসল নাম জিমি ডোনাল্ডসন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্প্রতি তিনি এই প্রকল্পের কথা জানিয়েছেন।
ঘানার পূর্বাঞ্চলে তৈরি করা ‘আবনা ডাকওয়া ভিলেজ’ নামের এই প্রকল্পে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, বিশুদ্ধ পানি ও স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। কোকো চাষের সঙ্গে যুক্ত এবং শিশুশ্রমের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে সহায়তা করাই প্রকল্পটির অন্যতম লক্ষ্য।
গ্রামটিতে ৩০০-এর বেশি শিক্ষার্থীর জন্য একটি স্কুল, শিক্ষকদের জন্য ১০টি বাড়ি, একটি চিকিৎসাকেন্দ্র ও একটি বাজার রয়েছে। পাশাপাশি বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা, সৌরবিদ্যুৎ এবং কৃষিকাজের সুবিধাও রাখা হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের পাঁচ বছর বিনা মূল্যে স্কুলের খাবার দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এ কর্মসূচিতে রকফেলার ফাউন্ডেশন সহায়তা করছে।
মিস্টারবিস্ট তার নিজ শহর যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ক্যারোলাইনার গ্রিনভিলের জন্য যথেষ্ট কাজ করেন না এমন অভিযোগ আছে। জবাবে তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রে তার একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এর মাধ্যমে তিনি ইতোমধ্যে কোটি কোটি খাবার বিতরণ করেছেন এবং স্থানীয়ভাবেও বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কাজ করেছেন।
মিস্টারবিস্টের সম্পদের পরিমাণ নিয়ে বিভিন্ন হিসাব রয়েছে। সেলিব্রিটি নেট ওয়ার্থের হিসাবে তার আনুমানিক সম্পদের পরিমাণ ২৬০ কোটি ডলার। তবে তার সম্পদের বড় অংশই তার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ‘বিস্ট ইন্ডাস্ট্রিজ’-এর মালিকানার অংশীদারত্ব থেকে এসেছে।
বিস্ট ইন্ডাস্ট্রিজ ইউটিউবভিত্তিক একটি চ্যানেল থেকে ধীরে ধীরে গণমাধ্যম, খাদ্য ও প্রযুক্তিসহ বিভিন্ন খাতে ব্যবসা করা বড় একটি প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। ২০২৫ সালে প্রতিষ্ঠানটি ৫২০ কোটি ডলার মূল্যায়নে নতুন বিনিয়োগ পেয়েছিল।
তবে এত সম্পদের হিসাব থাকলেও মিস্টারবিস্ট বলেছেন, তার হাতে নগদ টাকা খুবই কম। চলতি বছরের এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, বর্তমানে তাকে ধার করে চলতে হচ্ছে।
তিনি বলেন, তার প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের মূল্য অনেক বেশি হলেও সেই মূল্য দিয়ে দৈনন্দিন খরচ মেটানো যায় না।
বিস্ট ইন্ডাস্ট্রিজে প্রায় ৪৫০ জন কর্মী কাজ করেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। তাদের মধ্যে ৩০০ জনের বেশি ভিডিও তৈরির সঙ্গে যুক্ত। মিস্টারবিস্টের কিছু ইউটিউব ভিডিও তৈরিতে ৩০ থেকে ৪০ লাখ ডলার পর্যন্ত খরচ হয় বলেও জানা গেছে।
কোনো প্রকল্প তার মান অনুযায়ী না হলে তিনি সেটি বাতিলও করেন। এতে প্রতিষ্ঠানের কয়েক মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত ক্ষতি হতে পারে। এক বছরে প্রতিষ্ঠানটির লোকসান ১০ কোটি ডলার ছাড়িয়েছিল বলেও বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
মিস্টারবিস্ট ২০২০ সালে বলেছিলেন, তিনি বিলাসী জীবনযাপন করতে চান না। তার লক্ষ্য হলো জীবনের শেষ সময়ে ব্যাংক হিসাবে কোনো টাকা না রাখা এবং সম্পদকেন্দ্রিক জীবন থেকে দূরে থাকা।
সূত্র: ইকোনমিকস টাইমস
এসএ