
সংগৃহীত ছবি
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে দেশটিকে ‘নিশ্চিহ্ন’ করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
মঙ্গলবার জাতিসংঘ অধিবেশনে দেওয়া ৩৭ মিনিটের ভাষণে ট্রাম্প দাবি করেন, তার প্রশাসন ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে ঠেকিয়েছে।
একই সঙ্গে সংঘাতের অবসানে কোনো চুক্তি না হলে ‘ইসলামিক রিপাবলিককে দ্রুত নিশ্চিহ্ন’ করার হুমকি দেন তিনি।
তবে আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানের সঙ্গে শান্তিচুক্তি হতে পারে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন ট্রাম্প।
একই সঙ্গে ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্ন করতে অন্যান্য দেশকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
ট্রাম্প বলেন, ‘আমাকে একটি বড় সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
ইরানের সঙ্গে কি এমন একটি চুক্তি হবে, যার মাধ্যমে তারা পুনর্গঠন করে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক শক্তিশালী দেশ হতে পারবে? নাকি আমি ইসলামিক রিপাবলিককে নিশ্চিহ্ন করে দেব, দ্রুতই করব, যাতে তারা আবার মানুষ ও দেশ ধ্বংস করার সুযোগ না পায়?’
দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় ফেরার পর ট্রাম্প আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছেন। ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের সঙ্গে সামরিক অভিযান চালানোর পাশাপাশি ভেনেজুয়েলায় অভিযান চালিয়ে দেশটির নেতাকে আটক এবং গ্রিনল্যান্ড দখলের হুমকিও দিয়েছেন তিনি।
ট্রাম্প বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ বিশ্বকে পারমাণবিক অস্ত্রধারী একটি হুমকি থেকে রক্ষা করবে। একই সঙ্গে পশ্চিম গোলার্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক আধিপত্যকে সংকট ঠেকানোর জন্য প্রয়োজনীয় বলে উল্লেখ করেন তিনি।
ইরানের বাইরে ভেনেজুয়েলা নিয়েও বক্তব্য দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, পশ্চিম গোলার্ধে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য হুমকি তৈরি হতে দেওয়া হবে না।
জাতিসংঘ সদর দপ্তরের বাইরে ইরান সরকারের বিরোধী কয়েক ডজন বিক্ষোভকারী জড়ো হন। তাদের কয়েকজনের হাতে গণতন্ত্রের দাবিতে এবং ‘একনায়কতন্ত্রের’ বিরুদ্ধে লেখা প্ল্যাকার্ড ছিল।
মধ্যবর্তী নির্বাচনে তার রিপাবলিকান দল কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারালে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ পরিচালনায় তার ক্ষমতা সীমিত হতে পারে, এমন ধারণাও উড়িয়ে দেন ট্রাম্প।
তিনি বলেন, ‘তারা বুঝতে পারছে না, আমি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছি না। আমি এরই মধ্যে তা করেছি এবং বড় ব্যবধানে জিতেছি। আমরা বিশাল ব্যবধানে জিতেছি এবং আমি আরও আড়াই বছর এখানে থাকব।’
কূটনৈতিক তৎপরতা
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিবেশী দেশগুলোর সমালোচনাও করেন ট্রাম্প। মেক্সিকোকে তিনি ‘মাদক চক্রের সহিংসতার কেন্দ্রস্থল’ আখ্যা দিয়ে দেশটির সরকারকে নিজেদের ভূখণ্ডের নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধারের আহ্বান জানান। কিউবার পরিস্থিতিতেও ‘মৌলিক পরিবর্তন’ আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।
ট্রাম্প কিউবা নিয়ে কথা বলার সময় দেশটির প্রতিনিধিদলের সদস্যরা অধিবেশন কক্ষ থেকে বেরিয়ে যান।
তিনি কিউবাকে ‘সম্পূর্ণ ব্যর্থ রাষ্ট্র’ আখ্যা দিয়ে বলেন, দেশটি ‘আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি ব্যর্থ হচ্ছে এবং এর পতন হবে’। কিউবা নিয়ে আলোচনার দায়িত্ব মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর ওপর রয়েছে বলেও জানান তিনি।
জাতিসংঘের সমালোচনা পুনর্ব্যক্ত করে ট্রাম্প সংস্থাটির আমলাতন্ত্র কমানোর উদ্যোগের কথা বলেন। তবে নতুন করে কোনো জাতিসংঘ সংস্থা থেকে যুক্তরাষ্ট্র বেরিয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দেননি।
ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক অভিযানের দুইটি ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী যুদ্ধাপরাধ করেছে বলে জাতিসংঘের একটি তদন্ত মিশন ‘যৌক্তিক ভিত্তি’ পাওয়ার এক সপ্তাহেরও কম সময় পর ট্রাম্প এ ভাষণ দেন। এসব হামলার একটিতে দক্ষিণাঞ্চলীয় মিনাব শহরের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় আক্রান্ত হয়েছিল বলে মিশনটি জানায়।
আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতেরও সমালোচনা করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, কোনো ‘মার্কিনবিরোধী আদালত’ যেন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সদস্যদের তদন্ত বা বিচার করতে না পারে।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স
টিআইএস