টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী উপজেলার পাইস্কা ইউনিয়নে একই পরিবারের পাঁচজন হিন্দু ধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন। সম্প্রতি টাঙ্গাইল জেলা ও দায়রা জজ আদালতে এফিডেভিটের মাধ্যমে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে ধর্মান্তরিত হন।
শুক্রবার জুমার নামাজের পর স্থানীয় মসজিদে তাদের জন্য দোয়া করা হয়। তবে ধর্মান্তরের পর পরিবারটির সদস্যদের নিজ বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বর্তমানে তারা অন্যের আশ্রয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পাইস্কা ইউনিয়নের কয়ড়া গ্রামের সাগর বিশ্বাস (৩০) ইসলাম ধর্মের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে স্বপরিবারে ধর্মান্তরিত হন। ধর্মান্তরের পর তার নাম রাখা হয় মোহাম্মদ আলী। তার স্ত্রী বেবী রাণীর নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় ফাতেমা বেগম (২৭)। এছাড়া তাদের সন্তানদের নামও পরিবর্তন করা হয়েছে—প্রিয়াংষ্কা রানী থেকে আসমাউল হুসনা আছমা খাতুন, সূর্য বিশ্বাস থেকে মোহাম্মদ হুসাইন এবং জীবন থেকে মোহাম্মদ হাসান আলী।
মোহাম্মদ আলী বলেন, ছোটবেলা থেকেই ইসলাম ধর্মের প্রতি তার আগ্রহ ছিল। বিয়ের পর বিষয়টি স্ত্রীকে জানালে তিনি সমর্থন দেন। দীর্ঘদিন ধরে ইসলামী রীতিনীতি পর্যবেক্ষণ করে আল্লাহ ও মহানবী হযরত মোহাম্মদ (সা.)-এর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে তারা ধর্মান্তরিত হন।
তিনি অভিযোগ করেন, ধর্মান্তরের পর পরিবারের অন্য সদস্যরা তাদের স্ত্রী-সন্তানসহ বাড়ি থেকে বের করে দেয়। বর্তমানে তারা একেক দিন একেক জায়গায় আশ্রয় নিচ্ছেন। সম্প্রতি এক প্রতিবেশীর পরিত্যক্ত গোয়ালঘরে স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে রাত কাটাতে হয়েছে বলেও জানান তিনি।
স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য বাদল হোসেন বলেন, ধর্মান্তরের পর পরিবারটি সমাজচ্যুত হয়ে পড়েছে। তাদের জন্য গৃহনির্মাণসহ প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের এগিয়ে আসা জরুরি।
ধনবাড়ী উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এনামুল হক ভিপি বলেন, আইনগত প্রক্রিয়ায় ধর্মান্তরিত হওয়া এই পরিবারটি বর্তমানে অসহায় অবস্থায় রয়েছে। তাদের সহযোগিতায় দলীয়ভাবে উদ্যোগ নেওয়া হবে এবং সমাজের বিত্তবানদেরও এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
এ বিষয়ে ধনবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিজ নূরজাহান আক্তার সাথী বলেন, বিষয়টি জানার পর উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিবারটিকে শুকনো খাবার সরবরাহ করা হয়েছে। পাশাপাশি তাদের সন্তানদের লেখাপড়াসহ সার্বিক সহযোগিতা দেওয়া হবে।
এইচআর/এসআর