ENGLISH EPAPER 📍 ঢাকা 📅 বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩ তথ্য অধিদফতর নিবন্ধন নম্বর ০৬
শিরোনাম
Advertisement
ঈদের কেনাকাটায় জমে উঠেছে জয়পুরহাটের মার্কেটগুলো
✎ অবজারভার প্রতিনিধি
⏲ প্রকাশিত: বুধবার, ১১ মার্চ, ২০২৬, ৩:০৪ পিএম আপডেট: ১১.০৩.২০২৬ ৩:০৫ পিএম
X
Advertisement

ঈদ-উল-ফিতর আসন্ন। মার্কেটগুলো সেজেছে নতুন সাজে। উত্তরাঞ্চলের সীমান্তঘেঁষা ছোট জেলা জয়পুরহাটের মার্কেটগুলো ঈদের কেনাকাটায় এখন বেশ জমজমাট হয়ে উঠেছে। গভীর রাত পর্যন্ত চলছে কেনাকাটা। 

নিউ মার্কেট, পূর্ব বাজার লেডিস মার্কেট, বিপনী বিতান, বিগবাজার ও শপিংমল এখন ক্রেতা সমাগমে মুখোরিত। এবার দেশীয় কাপড়ের পাশাপাশি পাকিস্তানি কাপড়ের চাহিদা বেশি বলে জানান কাপড় বিক্রেতারা।

বিভিন্ন মার্কেট  ঘুরে ক্রেতা বিক্রেতার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রমযানের শুরুতে বেচা বিক্রি একটু কম থাকলেও ১০ রোজার পর থেকে মার্কেটে ক্রেতা সমাগম বেড়ে যায় এবং কেনাকাটাও বৃদ্ধি পেয়েছে। দিন-রাতে সুবিধামত সময়ে লোকজন যাচ্ছেন মার্কেটে, বিপনী বিতান ও শপিংমলে। ঈদ মার্কেটের কারণে শুক্রবারের সাপ্তাহিক ছুটি বাতিল করা হয়েছে। ফলে ক্রেতাদের পদচারণায় জমজমাট হয়ে উঠেছে নিউ মার্কেট এবং পূর্ব বাজারের বড় কাপড়ের দোকান, লেডিস মার্কেট ও ফ্যাশান শো, শপিংমলসহ অন্যান্য কসমেটিকস, জুতা ও সাধারণ কাপড়ের দোকানগুলো। বেশ কিছু জুতার দোকানে ৫০ ভাগ ছাড় দেওয়া হয়েছে। নারী, পুরুষ, শিশু-কিশোরসহ বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ কিনছেন তাদের পছন্দসই সামগ্রী।

প্রসাধনী ও জুতোর দোকানেও ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। সকাল থেকে আসা ক্রেতাদের ভিড়ে শহরে সৃষ্টি হচ্ছে যানজটের। কেনা-বেচা চলে রাত দেড়টা-দুইটা পর্যন্ত। 

যানজট নিয়ন্ত্রণ করতে ট্রাফিক পুলিশ বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করলেও তাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে বলে জানান ট্রাফিক পুলিশ পরিদর্শক (প্রশাসন) জামিরুল ইসলাম। 

জেলা শহরের নিউ মার্কেট, সদর রাস্তা, পূর্ব বাজার কাপড় পট্টি, এনামুল হক মার্কেট, মীনা বাজার ও  বিগবাজার, মৌসুমী, শাহাজান আলী মার্কেটসহ বিভিন্ন দোকানপাট ঘুরে দেখা যায়, বিক্রেতারা বাড়তি কথা বলার সময় পাচ্ছেন না। 

নিউ মার্কেটের ফাতেমা ক্লথ ষ্টোর, ফারুক ক্লথ ষ্টোর এবং পূর্ব বাজারের সাজ কালেকশন , গার্লস ভিলা,  করিম গেঞ্জি স্টোর ও বাবু গামের্ন্টসে ক্রেতাদের ভিড় বেশি লক্ষ্য করা গেছে। 

দোকানীরা জানান, রোজা শুরুর প্রথম দিকে বেচা-বিক্রি কম থাকলেও ১০ রোজার পর থেকে বেচাকেনা চলছে পুরোদমে।

পূর্ব বাজারের বাবু গার্মেন্টসের মালিক মাসুদ পারভেজ বাবু বলেন, 'ছোট শিশুদের জন্যও রয়েছে বেবী সেট ও গেঞ্জি সেট, কিশোর যুবকদের জন্য রয়েছে পাঞ্জাবী। পাঞ্জাবী বিক্রি হচ্ছে ৭০০ থেকে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত। বিভিন্ন মাপের গামের্ন্টস পোশাক শিশুদের জন্য বিক্রি হচ্ছে ১২০০ থেকে সাড়ে ৮ হাজার টাকা পর্যন্ত।  কাপড়, সেলাই, মজুরী ও পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় গতবারের তুলনায় এবার প্রকার ভেদে ২০০ থেকে ৪০০ টাকা পর্যন্ত দাম বৃদ্ধি পেয়েছে।'

ঈদের অনেক কেনাকাটার মধ্যে ১৫০০ টাকা দিয়ে একটি পাঞ্জাবী কিনে খুশি বলে জানান রামদেও বাজলা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ৯ম শ্রেণীর শিক্ষার্থী নাঈম ইসলাম। 

পূর্ব বাজারের দ্বিতীয় তলায় লেডিস মার্কেটের গার্লস ভিলা ও সাজ লেডিস কালেকশনের মালিক নাসরিন আক্তার বলেন, 'ক্রেতাদের নিকট এবার জনপ্রিয় আইটেম হচ্ছে পাকিস্তানি থ্রি-পিস ঘারারা। এছাড়াও গ্রাউন স্কাট, জর্জেট নিম্নে ২ হাজার ২০০ টাকা থেকে উপরে ৭ হাজার টাকা পর্যন্ত পছন্দসই কাপড় কিনছেন ক্রেতারা। ক্রেতারা তাদের সাধ ও সাধ্যের মধ্যে সমন্বয় করে কেনাকাটা করছেন। এবার পাইকারী বাজারে কাপড়ের দাম বেশি।

ক্রেতারা নিউ মার্কেট, বিপণিবিতান ও শপিং মলগুলো থেকে কেনাকাটা করছেন তাদের সামর্থ অনুযায়ী। 

হাউজিং এস্টেট এলাকার শিশু সামিউল ইসলাম জানায়, 'থ্রি-কোয়াটার প্যান্ট ও স্যান্ডেল কেনেছি এবারের ঈদে।'

জানিয়ার বাগান মহল্লার খোরশেদ আলম ১৫ হাজার টাকার মধ্যে দুটি পাঞ্জাবী, দুটি টাউজার ও দুই জোড়া জুতা কিনেছেন। দাম একটু বেশি বলে জানান তিনি।  

ঈদ এলে অতিরিক্ত ইনকামের আশায় জয়পুরহাটের অনেক দর্জি কারিগর ঢাকাতে চলে যায় বলে মন্তব্য করেন ফেমাস টেইলার্সের মালিক মকবুল হোসেন। 

তিনি বলেন, 'সেলাইয়ের জন্য শার্টপ্রতি ৫৫০-৬০০ টাকা, প্যান্ট ও পাঞ্জাবী সেলাই প্রতিটি ৭০০-৮০০ টাকা মজুরী নেওয়া হচ্ছে।'

পুলিশ সুপার মীনা মাহমুদা বলেন, 'জেলার সার্বিক আইন-শৃংখলা ভালো। তারপরও ঈদের কেনাকাটা সুষ্ঠু ভাবে সম্পন্ন করতে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে মার্কেটসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে। এছাড়াও শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে বাড়তি নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।'

মার্কেটগুলোতে আইন-শৃংখলা পরিস্থিতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেন পূর্ব বাজার কাপড় ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মাসুদ পারভেজ বাবু।

এসআই/এমএ
Advertisement
Loading...
Loading...
আরো দেখুন
সম্পাদক: ইকবাল সোবহান চৌধুরী
অবজারভার লিমিটেডের পক্ষে সম্পাদক কর্তৃক গ্লোব প্রিন্টার্স, ২৪/এ, নিউ ইস্কাটন রোড, রমনা, ঢাকা থেকে প্রকাশিত।
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:আজিজ ভবন (৩য় তলা), ৯৩, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা (সি/এ), ঢাকা-১০০০।

ফোন: পিএবিএক্স- ৪১০৫৩০০১-০৬; বিজ্ঞাপন: ৪১০৫৩০১২; ০১৭৯৩৩১৭৮২৯, ০১৫৫০৭০৭২৯১, ই-মেইল: [email protected], ‍[email protected] অনলাইন: ৪১০৫৩০১৪; ০১৫৫০৭০৭২৯৭ ই-মেইল: [email protected] ০১৫৫০৭০৭২৯৬
🔝
Advertisement