লাইফ সাপোর্টে রাখার পরও বাঁচানো গেল না জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের ৪৭তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ও জাবি ছাত্রদল নেতা সাইফুল ইসলাম রনিকে। অগ্নিদগ্ধ রনির শারীরিক অবস্থা শুরু থেকেই অত্যন্ত আশঙ্কাজনক ছিল। তার শ্বাসনালীসহ শরীরের বড় একটি অংশ দগ্ধ হওয়ায় হার্ট, কিডনি ও ফুসফুসের মতো গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলো অকেজো হয়ে গিয়েছিল। শেষ পর্যায়ে রক্তে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ায় তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
সোমবার সকালে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আইসিইউতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তার শরীরের ৩০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রনির বড় ভাই মোঃ মাসুদ রানা। রনি বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ছিলেন।
এর আগে, গত রবিবার রাতে একই ঘটনায় দগ্ধ অভিযুক্ত যুবক আব্দুস সোবহান রায়হানও চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
দগ্ধ সাইফুলের বন্ধুরা জানান, সাইফুল জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স পাস করেছেন। বর্তমানে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও ঢাকা জেলা উত্তরের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের হলেই থাকতেন।
নিহতের ভাই মোঃ মাসুদ রানা বলেন, আশুলিয়ার ইসলামনগর ৬ নম্বর গলির একটি বাড়ির দ্বিতীয় তলায় থাকতেন সাইফুলের বন্ধু রায়হান ও তার ভাই রাহাত। সেখানে পারিবারিক বিষয়ে বিরোধ চলছিল। বিরোধ মেটাতে গিয়েছিলেন সাইফুল। এক পর্যায়ে দুই ভাইয়ের মধ্যে ঝগড়া শুরু হলে রায়হান পেট্রোল ঢেলে ঘরে আগুন ধরিয়ে দেন। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ে, যার ফলে দগ্ধ হন রনিসহ রায়হান, রাহাত ও হাসিনুর। স্থানীয়রা দ্রুত আগুন নিভিয়ে আহতদের হাসপাতালে নেন। মধ্যরাতে সাইফুল ও হাসিনুরকে ঢামেকের বার্ন ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। অন্য দুই ভাইকে মোহাম্মদপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়।
প্রসঙ্গত, গত ২৭ জানুয়ারি রাতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন ইসলামনগর এলাকায় এক মর্মান্তিক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুস সোবহান রায়হান পারিবারিক কলহের জেরে নিজের ঘরে অকটেন ছিটিয়ে আগুন ধরানোর চেষ্টা করেন। খবর পেয়ে রনিসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী ও প্রতিবেশী মানবিক কারণে তাকে বাধা দিতে সেই ঘরে প্রবেশ করেন। রায়হানকে শান্ত করার চেষ্টা করতেই তিনি লাইটার দিয়ে ঘরে আগুন ধরিয়ে দেন। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ে, রনিসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন অধ্যাপকের গাড়িচালক মোঃ হাসিনুর (২৬) এবং রায়হান ও রাহাত দগ্ধ হন।
ওএফ/এসআর