রংপুর-১ আসনের জাতীয় পার্টির (জাপা) প্রার্থী ব্যারিস্টার মঞ্জুম আলী অভিযোগ করেছেন, বিএনপি প্রার্থীর পরিকল্পিত চক্রান্তের কারণে তার মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে।
মঙ্গলবার রাতে নিজ বাসভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই দাবি করেন।
সংবাদ সম্মেলনে ব্যারিস্টার মঞ্জুম আলী জানান, গত ১লা জানুয়ারি হলফনামায় যুক্তরাজ্য সংক্রান্ত তথ্যের অস্পষ্টতার অজুহাতে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা তার মনোনয়নপত্র বাতিল করেন। এর বিরুদ্ধে ৫ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশনে (ইসি) আপিল করলে শুনানি শেষে ১০ জানুয়ারি পুনরায় তা বাতিল হয়। তবে নির্বাচন কমিশন স্বপ্রণোদিত হয়ে (সুয়ো মোটো) ১৭ জানুয়ারি পুনরায় শুনানির মাধ্যমে তার মনোনয়নপত্রকে বৈধ ঘোষণা করে।
জাপা প্রার্থীর অভিযোগ, ইসি কর্তৃক মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণার পর ২১ জানুয়ারি বিএনপি প্রার্থী মোকাররম হোসেন সুজন হাইকোর্টে রিট (নম্বর: ১০৫১/২৬) দায়ের করেন। এর প্রেক্ষিতে ২২ জানুয়ারি হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ ইসির আদেশের ওপর স্থগিতাদেশ প্রদান করেন। গতকাল ২৬ জানুয়ারি চেম্বার কোর্ট মামলাটি ফুল বেঞ্চে পাঠালে আজ ২৭ জানুয়ারি প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ মামলাটি খারিজ করে দেন। ফলে হাইকোর্টের স্থগিতাদেশ বহাল থাকায় মঞ্জুম আলীর প্রার্থিতা বাতিল হয়ে যায়।
গণমাধ্যমে প্রচারিত 'দ্বৈত নাগরিকত্বের' বিষয়টি অস্বীকার করে ব্যারিস্টার মঞ্জুম আলী বলেন, "আমার মনোনয়নপত্র কখনোই দ্বৈত নাগরিকত্বের কারণে বাতিল হয়নি। আদালত বা ইসি—কোথাও এ নিয়ে কোনো আপত্তি ওঠেনি। অথচ কিছু গণমাধ্যম উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে।"
চক্রান্তের অভিযোগ অস্বীকার করে বিএনপি প্রার্থী মোকাররম হোসেন সুজন বলেন, "তিনি (মঞ্জুম আলী) দ্বৈত নাগরিকত্বের বিষয়টি পরিষ্কার করেননি। অভিযোগ যে কেউ তুলতে পারে, কিন্তু তা প্রমাণ করতে হবে। আমি কোনো চক্রান্ত করিনি, কেবল আইনি প্রক্রিয়ায় লড়েছি।"
এই আইনি লড়াইয়ের ফলে রংপুর-১ আসনের নির্বাচনী সমীকরণে নতুন মোড় আসবে বলে ধারণা করছেন স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
এলওয়াই/এসআর