নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য, সিটি কর্পোরেশনের ৬নং ওয়ার্ড বিএনপির আহ্বায়ক এবং ঢাকা বিভাগীয় ট্যাংকলরি মালিক সমিতির গোদনাইল শাখার সভাপতি ওকিল উদ্দিন ভূঁইয়াকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে যুবদলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের কার্যালয় প্রাঙ্গণে জেলা যুবদলের সদস্য সচিব মশিউর রহমান রনির অনুসারী কিছু যুবদল কর্মী এ হামলা চালায় বলে জানা গেছে। এ সময় বিএনপি নেতা ওকিল উদ্দিন ভূঁইয়াকে ব্যাপক মারধর করা হয় এবং তার পরনের শার্ট ছিঁড়ে ফেলা হয়। পরে উপস্থিত অন্যরা এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
ঘটনার পর বিকেলে ৪ যুবদল নেতাকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। বহিষ্কৃতরা হলেন ফতুল্লার এনায়েতনগর ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মো. মামুন, মো. কাউসার, নিতাই ও দেলোয়ার হোসেন।
স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদতবার্ষিকী উপলক্ষে নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের উদ্যোগে বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এর মধ্যে ছিল স্বেচ্ছায় রক্তদান, বৃক্ষ মেলা, বই মেলা, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা এবং জিয়াউর রহমানের দুর্লভ আলোকচিত্র প্রদর্শনী।
কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে জেলা পরিষদে বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত হন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান চলাকালে জেলা যুবদলের সদস্য সচিব মশিউর রহমান রনি ও বিএনপি নেতা ওকিল উদ্দিন ভূঁইয়ার মধ্যে কথাকাটাকাটি হয়। এর জের ধরে পরে কার্যালয় প্রাঙ্গণে একা পেয়ে ওকিল উদ্দিন ভূঁইয়াকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। পরে অন্যরা এগিয়ে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
বিএনপি নেতা ওকিল উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, “অনুষ্ঠানের শুরুতে মশিউর রহমান রনির সঙ্গে আমার তর্ক হয়। পরে জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যাপক মামুন মাহমুদসহ অন্যান্য নেতারা বিষয়টি সমাধান করেন। এরপর আমি কার্যালয় প্রাঙ্গণে আসার পরই আমার ওপর অতর্কিত হামলা করা হয়। আমি এ ঘটনায় মামলা করব।”
অন্যদিকে, জেলা যুবদলের সদস্য সচিব মশিউর রহমান রনি বলেন, “আমাদের মধ্যে শুরুতে ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল। পরে উভয় পক্ষের উপস্থিতিতে বিষয়টি সমাধান করা হয়। কিন্তু কিছু অতিউৎসাহী কর্মী পরে কার্যালয় প্রাঙ্গণে গিয়ে এ ঘটনা ঘটায়। তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং তাদের যুবদল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।”
এসএস/আরএন