ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সম্প্রতি সফলভাবে কিডনি প্রতিস্থাপন সম্পন্ন হওয়ায় হাসপাতালটি পরিদর্শন করেছেন বিএনপির স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ও বিশিষ্ট ইউরোলজিস্ট অধ্যাপক ডা. মো. রফিকুল ইসলাম। পরিদর্শনকালে তিনি হাসপাতালের পরিচালক, অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ, বিভিন্ন বিভাগের প্রধান, চিকিৎসক, নার্স এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
এ সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে অধ্যাপক ডা. রফিকুল ইসলাম দেশে অঙ্গ প্রতিস্থাপনের বর্তমান অবস্থা, সম্ভাবনা এবং চ্যালেঞ্জ নিয়ে বিস্তারিত বক্তব্য দেন।
তিনি বলেন, ক্যাডাভারিক ট্রান্সপ্ল্যান্ট হলো এমন একটি অঙ্গ প্রতিস্থাপন পদ্ধতি, যেখানে ব্রেইন-ডেড বা মৃত ব্যক্তির শরীর থেকে অঙ্গ সংগ্রহ করে অন্য রোগীর শরীরে প্রতিস্থাপন করা হয়। হার্ট, লিভার, কিডনি, ফুসফুস ও কর্নিয়াসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ এ পদ্ধতিতে প্রতিস্থাপন করা সম্ভব। বিশেষ করে যেসব অঙ্গ জীবিত দাতার কাছ থেকে সংগ্রহ করা সম্ভব নয়, সেসব ক্ষেত্রে ক্যাডাভারিক ট্রান্সপ্ল্যান্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
তিনি জানান, বাংলাদেশে আইনগতভাবে ক্যাডাভারিক অঙ্গ প্রতিস্থাপনের সুযোগ থাকলেও এর বাস্তব প্রয়োগ এখনও সীমিত। ২০২৩ সালে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে দেশের প্রথম সফল ক্যাডাভারিক কিডনি প্রতিস্থাপন সম্পন্ন হয়। ওই ঘটনায় একজন ব্রেইন-ডেড দাতার শরীর থেকে সংগৃহীত দুটি কিডনি দুইজন রোগীর শরীরে প্রতিস্থাপন করা হয়েছিল। তবে দেশে এখনও এ ধরনের প্রতিস্থাপনের কোনো নিয়মিত ও প্রাতিষ্ঠানিক কর্মসূচি গড়ে ওঠেনি।
অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম বলেন, দেশে ক্যাডাভারিক ট্রান্সপ্ল্যান্টের বিস্তার না ঘটার পেছনে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সামাজিক ও ধর্মীয় বিষয়ে প্রচলিত ভুল ধারণা, জনসচেতনতার অভাব, প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর সীমাবদ্ধতা, আইনগত ও প্রশাসনিক জটিলতা এবং জাতীয় পর্যায়ে সমন্বিত ব্যবস্থাপনার ঘাটতি।
তবে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, মানব অঙ্গ ও টিস্যু প্রতিস্থাপন অধ্যাদেশ, ২০২৫ দেশের অঙ্গ প্রতিস্থাপন ব্যবস্থায় ইতিবাচক ও দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তনের পথ তৈরি করবে। তাঁর মতে, ‘ইমোশনাল ডোনার’ ব্যবস্থার সম্প্রসারণ এবং একটি জাতীয় ‘সোয়াপ রেজিস্ট্রি’ চালু করা গেলে প্রতি বছর হাজার হাজার মানুষের জীবন রক্ষা করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে নতুন আইন কঠোর নৈতিক মানদণ্ড বজায় রেখে অঙ্গদানের ক্ষেত্রে বিদ্যমান অনেক প্রতিবন্ধকতা দূর করতে সহায়ক হবে।
তিনি আরও বলেন, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের অঙ্গ প্রতিস্থাপন কর্মসূচি ধীরে ধীরে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়ে উঠবে। এর ফলে শেষ পর্যায়ের কিডনি, লিভার বা অন্যান্য অঙ্গ বিকলতায় আক্রান্ত রোগীদের জন্য চিকিৎসার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে এবং তারা জীবন ফিরে পাওয়ার আরও বড় সুযোগ পাবেন।
পরিদর্শন শেষে অধ্যাপক ডা. রফিকুল ইসলাম ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক ও সংশ্লিষ্টদের সফল কিডনি প্রতিস্থাপনের জন্য অভিনন্দন জানান এবং ভবিষ্যতে আরও উন্নত ও আধুনিক অঙ্গ প্রতিস্থাপন সেবা চালুর বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
আরএন