খুলনায় গৃহপরিচারিকা আকলিমা খাতুনের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগে ডাঃ সামসুর নাহার লাকি ও আরও ৭ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলাটি অতিরিক্ত চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সদর আমলী আদালতে ২ সেপ্টেম্বর দায়ের করা হয়। আদালত বিষয়টি খুলনা পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন এবং পরবর্তী শুনানি ৩০ অক্টোবর ধার্য করেছেন।
মামলার অন্যান্য আসামির মধ্যে রয়েছেন—লাকির ভাই আলিমুর রেজা, মিসেস মালি, কাজী আবুল হাসান, মোহাম্মাদ আলী, মো. ইলিয়াস, শাওলী হাসান ও রাদ হাসান।
আইনজীবী এড. এম. মাফতুম আহমেদ জানান, আকলিমা খাতুন ১৯৯৯ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত ডাঃ সামসুর নাহার লাকির খুলনা মহানগরীর আহসান আহমেদ রোডস্থ বাড়িতে গৃহপরিচারিকার কাজ করেছেন। চলতি বছরের মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে শারীরিক ও পারিবারিক কারণে তিনি দায়িত্ব পালনে অক্ষমতার কথা জানালে, ডাঃ সামসুর নাহার লাকি ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন।
২৭ জুলাই, ডাঃ সামসুর নাহার লাকির নির্দেশে আকলিমাকে অবরুদ্ধ করে শারীরিক নির্যাতন করা হয়। পরবর্তীতে ঢাকায় আত্মগোপন করার পর ফিরে এসে আবারও তাকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়। উপস্থিত আসামিদের দ্বারা আকলিমা অজ্ঞান হয়ে পড়েন। এরপর তাকে ভয় দেখিয়ে ব্যাংকে জমাকৃত ৬ লাখ ৬১ হাজার ৪০০ টাকা উত্তোলন করানো হয়।
এ ঘটনায় চিকিৎসক সামসুর নাহার লাকি আরও চাপ প্রয়োগ করেন, দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি ও জমি লিখে নেওয়ার চেষ্টা করেন। পরে আকলিমাকে ছেলে ও ভাইয়ের মুচলেকার মাধ্যমে মুক্ত করা হয়।
ডাঃ সামসুর নাহার লাকি বর্তমানে খুলনা মেডিকেল কলেজের অধ্যাপক ও হাসপাতালের প্রধান (স্ত্রীরোগ ও প্রসূতিবিদ্যা) হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।
আকলিমার পরিবার অভিযোগ করেন, কাজ ছেড়ে দেওয়ার পরও তারা অব্যাহত হুমকির মধ্যে রয়েছেন। মামলার বিষয়ে ডাঃ সামসুর নাহার লাকির সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলে ভিকট্রি ফার্টিলিটি অ্যান্ড আইভিএফ সেন্টার থেকে বলা হয়, ‘ম্যাডাম ঢাকায় আছেন’, মোবাইল নম্বর দেওয়া হয়নি।
এমএমএস/এসআর