ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলায় শ্যালো মেশিন চুরির ঘটনা ধামাচাপা দিতে না মানায় কার্তিক চন্দ্র (৫০) নামে এক গরু ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে।
সোমবার রাত ১১টার দিকে ধর্মগড় ইউনিয়নের নারায়ানপুর কুয়াভিটা গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।
পরিবারের দাবি, কার্তিক চন্দ্র শালিসে সত্য বলার চেষ্টা করছিলেন। অভিযুক্তরা তাকে মিথ্যা স্বাক্ষী দিতে চাপ দেয়। রাজি না হওয়ায় তারা প্রথমে মারপিট করে এবং পরে কুপিয়ে হত্যা করে।
মঙ্গলবার দুপুরে নিহতের ছেলে কপিল চন্দ্র বর্মন বাদী হয়ে ১৩ জনের নাম উল্লেখ করে রানীশংকৈল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। ঘটনার রাতে পুলিশ পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন- ধর্মগড় ইউনিয়নের কুয়াভিটা গ্রামের প্রয়াত অনন্ত কুমার রায়ের দুই ছেলে তপন চন্দ্র (৪৩), ডালিম চন্দ্র (৩৫), একই গ্রামের নবদেব কুমার বর্মনের ছেলে রতন চন্দ্র বর্মন (২৩), প্রয়াত হেমন্তের ছেলে নবদেব কুমার বর্মন (৪৮) ও একই গ্রামের হিরা। গ্রেফতারকৃতদের মঙ্গলবার(৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে হত্যা মামলায় ঠাকুরগাঁও আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
নিহত কার্তিক রায়ের মেয়ে ললিতা রায় বলেন, বাবাকে মোবাইলে ডেকে নেয় শ্যালোমেশিন চুরির সাথে জড়িত হুদা ও তার লোকজন। মঙ্গলবার বসতে চাওয়া শালিস বৈঠকে জড়িতদের নাম গোপন করে তাকে মিথ্যা স্বাক্ষী দিতে বলা হয়। এতে রাজি না হওয়ায় বাবাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয় বলে দাবী করেন কার্তিকের মেয়ে। জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেন তিনি।
মামলার বাদী কপিল চন্দ্র বর্মন বলেন, বাবা ছিলেন সৎ ও রাগী মানুষ। পরিকল্পিতভাবে আসামীরা বাবাকে হত্যা করেছে। আমি অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।
মামলার বরাতে ওসি আরশেদুল হক বলেন, সোমবার রাতে গ্রেপ্তারকৃত পাঁচজনসহ অন্য আসামীরা মিলে প্রতিবেশি কার্তিক চন্দ্র বর্মনকে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে এলোপাথারি কুপিয়ে জখম করে। এসময় কার্তিক চন্দ্র বর্মন গুরুত্বর আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পরলে আসামীরা পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয় ও পরিবারের লোকজন মিলে ঘটনাস্থল থেকে আহত অবস্থায় কার্তিককে উদ্ধার করে রাণীশংকৈল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে, জরুরী বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এদিকে খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অভিযান চালিয়ে পুলিশ প্রথমে তিনজনকে ও পরে আরও দুইজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। অন্য আসামীদেরও গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
কেএএস/ এসআর