চট্টগ্রামে ফুডপান্ডাকে বিদায় জানালেন রেস্টুরেন্ট মালিকরা। এবার প্রশ্ন উঠেছে, ঢাকায় কী হবে? চট্টগ্রামের মতো ঢাকাতেও ফুডপান্ডা বয়কটের উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে- এমন গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে রেস্টুরেন্ট ব্যবসায়ীদের মধ্যে। কমিশন, বিভিন্ন চার্জ ও ব্যবসায়িক শর্ত নিয়ে দীর্ঘদিনের অসন্তোষ থেকে ঢাকার রেস্টুরেন্ট মালিকদের মধ্যেও একই ধরনের অবস্থান তৈরির আলোচনা চলছে বলে জানা গেছে। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক সম্মিলিত সিদ্ধান্তের তথ্য পাওয়া যায়নি।
চট্টগ্রামে ফুডপান্ডার সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক ছিন্ন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন স্থানীয় রেস্টুরেন্ট মালিকদের একটি বড় অংশ। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন দাবি ও সমস্যা নিয়ে প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে আলোচনা করেও আশানুরূপ সমাধান না পাওয়ায় সম্মিলিতভাবে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা। তাঁদের এ সিদ্ধান্তের প্রতি একাত্মতা প্রকাশ করে চট্টগ্রামে ফুডপান্ডার কার্যক্রম বন্ধ রেখেছে ঢাকার রেস্টুরেন্ট ব্র্যান্ড রোডসাইড কিচেনও।
রেস্টুরেন্ট মালিকদের অভিযোগ, ডেলিভারি প্ল্যাটফর্মটির কমিশন, বিভিন্ন চার্জ এবং ব্যবসায়িক শর্ত নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে অসন্তোষ বিরাজ করছে। এসব বিষয়ে প্রায় এক মাস ধরে বিভিন্ন মাধ্যমে ফুডপান্ডার সঙ্গে আলোচনা করা হলেও রেস্টুরেন্ট মালিকদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে প্রত্যাশিত কোনো ফল পাওয়া যায়নি। এর পরিপ্রেক্ষিতে চট্টগ্রামের রেস্টুরেন্ট মালিকদের সম্মিলিত সিদ্ধান্তে ফুডপান্ডার কার্যক্রম স্থায়ীভাবে বন্ধের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বারকোডের স্বত্বাধিকারী মঞ্জুরুল হক বলেন, ঢাকার অনেক রেস্টুরেন্ট মালিক যেখানে সামান্য ব্যবসায়িক স্বার্থ ছাড়তেও দ্বিধায় রয়েছেন, সেখানে চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীরা লাভ-লোকসানের হিসাবের ঊর্ধ্বে উঠে নিজেদের অধিকার ও মর্যাদা রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন। এটি শুধু একটি ডেলিভারি প্ল্যাটফর্মকে বর্জনের সিদ্ধান্ত নয়; বরং নিজেদের অধিকার রক্ষা এবং ব্যবসায়ীদের সম্মিলিত শক্তির বহিঃপ্রকাশ।
তিনি আরও বলেন, রেস্টুরেন্ট মালিকদের অংশগ্রহণ ছাড়া কোনো ডেলিভারি প্ল্যাটফর্মের ব্যবসায়িক কার্যক্রম শক্তিশালী হতে পারে না। রেস্টুরেন্ট ব্যবসা কোনো একটি প্ল্যাটফর্মের ওপর নির্ভরশীল নয়। ঐক্যবদ্ধ থাকলে নিজেদের স্বার্থ ও অধিকার রক্ষা করা সম্ভব।
এদিকে, চট্টগ্রাম ক্লাবের ফ্যামিলি ডাইনিং হলে চট্টগ্রাম রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির এক গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় ফুডপান্ডার সঙ্গে চলমান ব্যবসায়িক পরিস্থিতি, রেস্টুরেন্ট মালিকদের বিভিন্ন দাবি ও সমস্যা, ডেলিভারি প্ল্যাটফর্মের কমিশন ও অন্যান্য চার্জ এবং রেস্টুরেন্ট শিল্পের সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
পাশাপাশি সমিতির সাংগঠনিক কার্যক্রম, ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা এবং রেস্টুরেন্ট ব্যবসায়ীদের অধিকার ও স্বার্থ সংরক্ষণে করণীয় বিষয়েও মতবিনিময় করেন উপস্থিত ব্যবসায়ীরা। সভায় সবার মতামতের ভিত্তিতে ঐক্যবদ্ধ ও কার্যকর সাংগঠনিক অবস্থান গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।
চট্টগ্রামের রেস্টুরেন্ট মালিকদের এ উদ্যোগের প্রতি সংহতি জানিয়ে ঢাকার ব্র্যান্ড রোডসাইড কিচেনও চট্টগ্রামে ফুডপান্ডার কার্যক্রম বন্ধ রেখেছে। এ অবস্থানকে প্রশংসনীয় উল্লেখ করে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা চট্টগ্রামে ব্যবসা পরিচালনাকারী ঢাকার অন্যান্য রেস্টুরেন্টকেও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, ব্র্যান্ড বা ব্যবসার অবস্থান আলাদা হলেও ন্যায্য অধিকার ও ব্যবসায়িক স্বার্থ সবার অভিন্ন।
অন্যদিকে, ফুডপান্ডার বিকল্প হিসেবে গ্রাহকদের জন্য আরও সহজ, সাশ্রয়ী ও উন্নত খাবার সরবরাহ সেবা নিশ্চিত করতে সম্মিলিতভাবে কাজ করার কথা জানিয়েছেন রেস্টুরেন্ট মালিকরা। এ লক্ষ্যে শিগগিরই নতুন উদ্যোগ ও আকর্ষণীয় সুবিধা নিয়ে গ্রাহকদের সামনে হাজির হওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
রেস্টুরেন্ট মালিকদের এই সম্মিলিত অবস্থান দেশের রেস্টুরেন্ট শিল্পে ডেলিভারি প্ল্যাটফর্মগুলোর সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক, কমিশন কাঠামো ও অন্যান্য শর্ত নিয়ে নতুন করে আলোচনার সুযোগ তৈরি করেছে। এখন দেখার বিষয়, চট্টগ্রামের এই উদ্যোগ ঢাকার রেস্টুরেন্ট মালিকদের মধ্যেও কোনো সম্মিলিত প্রতিক্রিয়া তৈরি করে কি না।
-টিএস