বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা কে এম তাহসিফ সাউরি হত্যা মামলায় তিন দিনের পুলিশ রিমান্ড শেষে আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। শুনানি শেষে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শনিবার (৭ নভেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মো. মনিরুল ইসলাম এ আদেশ দেন।
শুনানিতে আসামিপক্ষের আইনজীবী বলেন, রিমান্ড শুনানির সময় তারা কোনো জামিন আবেদন করেননি। জিজ্ঞাসাবাদে দীপ সব ধরনের তথ্য দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। তবে বারবার রিমান্ডে নেওয়ার পরও চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়ার কথা বলা হলেও কাউকে জোর করে স্বীকারোক্তি আদায়ের সুযোগ নেই। এ ছাড়া আসামির মানসিক অবস্থার বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন। এসব বিষয় তুলে ধরে তিনি দীপের জামিন আবেদন করেন।
এর আগে তিন দিনের পুলিশ রিমান্ড শেষে দীপকে আদালতে হাজির করে পুলিশ। পুলিশের আবেদনে বলা হয়, জিজ্ঞাসাবাদে দীপ ঘটনার দিন তাহসিফের সঙ্গে বিভিন্ন স্থানে ঘোরাফেরা ও রেস্টুরেন্টে খাওয়াদাওয়ার বিষয়ে তথ্য দিয়েছেন। তবে হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে গেছেন এবং নীরবতা পালন করেছেন।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় তাহসিফকে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে যান দীপ। পরে তারা একটি মোটরসাইকেল গ্যারেজে যান। এরপর জেরিকা তাসনিম দিশাকে সঙ্গে নিয়ে রাজধানীর সিপি ফাইভ স্টারে নাশতা করেন। রাতে তারা উত্তরার নেস্ট বার অ্যান্ড রেস্টুরেন্টে যান। সেখানে তিনজনই বিয়ার পান ও ধূমপান করেন। একপর্যায়ে জেরিকা বাসায় ফিরে যান।
পুলিশের আবেদনে আরও বলা হয়, ২৮ অক্টোবর রাত ১২টা ৪০ মিনিটের দিকে তাহসিফ ও দীপ টঙ্গীর মাজার বস্তি এলাকায় পৌঁছান। পরে তুরাগ নদীর তীরবর্তী একটি মাঠে যাওয়ার পর কয়েকজনকে দেখে তারা আলাদা হয়ে যান বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন দীপ।
সিসিটিভি ফুটেজ, মোবাইল ফোনের কললিস্টসহ অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করে মৃত্যুর আগে তাহসিফকে সর্বশেষ দীপ ও জেরিকার সঙ্গে দেখা গেছে বলে দাবি পুলিশের। রিমান্ডে পাওয়া গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তদন্তের স্বার্থে গোপন রেখে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে বলেও আদালতে দেওয়া আবেদনে উল্লেখ করা হয়।
এসএস