জয়পুরহাট সদর উপজেলার দুর্গাদহ ঢুলিপাড়া এলাকায় বন্দনা রানি দাস নামে এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তার স্বামী রাজকুমার দাসকে আটক করা হয়েছে। নিহতের পরিবারের অভিযোগ, পারিবারিক কলহের জেরে স্বামীর মারধরের কারণে তার মৃত্যু হয়েছে।
পুলিশ জানায়, আটক রাজকুমার দাস সদর উপজেলার দুর্গাদহ ঢুলিপাড়া গ্রামের বাবলু দাসের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক কলহ চলছিল। শনিবার রাতে সেলাই মেশিন নেওয়াকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে রাজকুমার দাস তার স্ত্রীকে মারধর করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে রোববার ভোরে বাড়ির একটি কক্ষে বন্দনা রানি দাসের ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পান তার শ্বশুর। পরে পরিবারের সদস্যরা মরদেহ নিচে নামিয়ে স্থানীয়দের খবর দেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জয়পুরহাট আধুনিক জেলা হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, রাজকুমার দাসের পরকীয়াজনিত বিরোধকে কেন্দ্র করে প্রায়ই পারিবারিক অশান্তি সৃষ্টি হতো এবং তিনি বিভিন্ন সময় স্ত্রীকে নির্যাতন করতেন। তাদের দাবি, ঘটনাটি আত্মহত্যা নয়, বরং পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।
তবে এ বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে এখনই নিশ্চিত কোনো মন্তব্য করা হয়নি।
জয়পুরহাট থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আনোয়ার হোসেন বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায় মরদেহ নিচে নামানো হয়েছে। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। নিহতের শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত চলছে এবং ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এসআইএস/এসআর