নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে চলাচলের রাস্তার উপর টিনশেড ঘর নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। এতে উপজেলার সোনারগাঁও পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের দত্তপাড়া গ্রামের অন্তত ১০টি পরিবার চরম ভোগান্তিতে পড়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, রাস্তা সংকুচিত হয়ে যাওয়ায় যানবাহন তো দূরের কথা, অ্যাম্বুলেন্স প্রবেশ করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। এমনকি মৃত ব্যক্তির লাশও বাড়ি থেকে বের করতে গিয়ে চরম সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে বলে দাবি তাদের।
এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো রোববার (২৮ জুন) উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, সহকারী কমিশনার (ভূমি) এবং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে।
স্থানীয়রা জানান, দত্তপাড়া গ্রামের আজগর হোসেন ভূঁইয়া ও রোকসানা আক্তার মিনু দম্পতি চলাচলের রাস্তার অংশ দখল করে টিনশেড ঘর নির্মাণ করেছেন। এতে রাস্তা সংকুচিত হয়ে স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। অন্যরা নিয়ম মেনে জায়গা ছাড় দিলেও অভিযোগ রয়েছে, ওই দম্পতি কোনো জায়গা না রেখে স্থাপনা নির্মাণ করেছেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, রাস্তার অংশ দখল করে নির্মিত স্থাপনার কারণে পথটি সংকীর্ণ হয়ে পড়েছে। এতে স্থানীয়দের স্বাভাবিক চলাচল, অসুস্থ রোগী পরিবহন এবং মৃতদেহ বহনের ক্ষেত্রেও চরম ভোগান্তি তৈরি হয়েছে।
অভিযোগকারী গোলাম ফারুক পাটোয়ারী বলেন, “আমরা আগে জমি কিনেছি। নিয়ম অনুযায়ী স্থাপনা নির্মাণের সময় কিছু জায়গা ছাড় দিতে হয়, কিন্তু তারা এক ইঞ্চিও ছাড় দেননি। এমনকি আমার মা-বাবার মরদেহ বের করার সময় ঘরের বেড়া খুলে বের করতে হয়েছে।”
স্থানীয় সালিশকার আফাজউদ্দিন বলেন, “আমরা বারবার অনুরোধ করেছি রাস্তা থেকে স্থাপনা সরিয়ে নিতে। সংকুচিত রাস্তায় লাশ বের করতেও সমস্যা হয়। ক্ষতিপূরণ দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হলেও তারা রাজি হননি।”
অন্যদিকে স্থানীয় বাসিন্দা সবুজ জানান, দুই পাশে রাস্তা দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করায় পুরো এলাকার অন্তত ১০টি পরিবার ভোগান্তিতে রয়েছে।
অভিযুক্ত রোকসানা আক্তার মিনু দাবি করেন, তিনি নিজস্ব জমির ওপরই ঘর নির্মাণ করেছেন এবং রাস্তা দখল করেননি। তবে নির্মাণবিধি অনুযায়ী জায়গা ছাড় দিয়েছেন কি না—এ প্রশ্নের জবাবে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।
সোনারগাঁও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসিফ আল জিনাত বলেন, অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে সহকারী কমিশনার (ভূমি)কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এইচএমআর/এসআর