সুইজারল্যান্ডের কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুইস ন্যাশনাল ব্যাংকে (এসএনবি) বাংলাদেশিদের আমানতের পরিমাণ বেড়েছে। এক বছরেই দেশটির ব্যাংকগুলোতে বাংলাদেশিদের জমা অর্থের পরিমাণ ৪১.৪৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। জানা গেছে, বাংলাদেশিরা যে হারে সুইজারল্যান্ডের বিভিন্ন ব্যাংকে অর্থ জমা করেছেন, তা ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রেকর্ড।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) প্রকাশিত সুইজারল্যান্ডের কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুইস ন্যাশনাল ব্যাংকের (এসএনবি) বার্ষিক প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৫ সালে বাংলাদেশিদের জমা অর্থের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৩ কোটি ৪১ লাখ সুইস ফ্রাঁ (সুইজারল্যান্ডের মুদ্রা)। ২০২৪ সালে এর পরিমাণ ছিল প্রায় ৫৯ কোটি সুইস ফ্রাঁ।
বর্তমান বাজারদর অনুযায়ী, এক সুইস ফ্রাঁতে ১৫২ থেকে ১৫৩ টাকা পাওয়া যায়। প্রতি সুইস ফ্রাঁ ১৫২ টাকা হিসাবে ধরলে, সুইস ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী ২০২৫ সালের শেষে সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের অর্থের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ১২ হাজার ৬৭৮ কোটি টাকা।
প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২১ সালের পর গত বছর (২০২৫ সাল) সুইস ব্যাংকগুলোতে বাংলাদেশিদের সর্বোচ্চ পরিমাণ অর্থ জমা হয়েছে।
সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকগুলোতে বাংলাদেশিদের অর্থ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নামে জমা হয়। বাংলাদেশের অনেক ব্যাংকও বৈধ পথে দেশটির ব্যাংকে অর্থ জমা রাখে। পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসকারী বাংলাদেশিরাও সুইস ব্যাংকে অর্থ জমা রাখেন।
এ ছাড়া বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সুইস ব্যাংকের শাখাগুলোতে বসবাসকারী বাংলাদেশিদের জমা করা অর্থও সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের আমানত হিসেবে বিবেচিত হয়। সুইজারল্যান্ডের কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিভিন্ন দেশ থেকে জমা হওয়া এসব অর্থকে সংশ্লিষ্ট দেশের দায় হিসেবে আর্থিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করে থাকে। এর অর্থ, সুইস ব্যাংকে থাকা সব অর্থই পাচার করা অর্থ নয়।
এসএনবির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২২ ও ২০২৩ সালে টানা দুই বছর সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের জমা অর্থের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। ওই দুই বছরে যথাক্রমে সাড়ে ৫ কোটি সুইস ফ্রাঁ এবং পৌনে ২ কোটি সুইস ফ্রাঁ জমা ছিল।
আন্তর্জাতিক বিভিন্ন চুক্তির কারণে বর্তমানে সুইজারল্যান্ড বিভিন্ন দেশের সরকারের চাহিদা অনুযায়ী ব্যাংক তথ্য সরবরাহ করে। তবে অভিযোগ রয়েছে, ব্যবসা-বাণিজ্যের আড়ালে অনেকে বিভিন্ন দেশে অর্থ পাচার করেন।
আরএন