আগামী অর্থবছরে নারী ও শিশুবান্ধব কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণের কথা জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপনকালে তিনি এ তথ্য তুলে ধরেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বৈষম্যহীন শ্রমবাজার গঠনে নারী ও শিশুবান্ধব কর্মস্থল নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। এ লক্ষ্যে কর্মক্ষেত্রে নারী শ্রমিক ও কর্মজীবীদের প্রতি যেকোনো ধরনের সহিংসতা ও যৌন হয়রানির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা হবে।
তিনি আরও জানান, নারীদের জন্য নিরাপদ আবাসন ও যাতায়াত ব্যবস্থার পরিসর আরও সম্প্রসারণ করা হবে।
অর্থমন্ত্রী এসময় বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাত থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যে রুফটপ সোলার কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। এছাড়াও উপকূলীয় ও নিকটবর্তী অঞ্চলসমূহে বায়ু বিদ্যুৎ সমীক্ষা বাস্তবায়ন, বৃহৎ ইউটিলিটি স্কেল সৌর প্রকল্প বাস্তবায়ন, বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন সংক্রান্ত সার্ভে, সমীক্ষা, পাইলট ও বাণিজ্যিক প্রকল্প বাস্তবায়ন, জাতীয় এনার্জি স্টোরেজ রোডম্যাপ প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন এবং গ্রিড ফ্লেক্সিবিলিটি কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। জ্বালানি-দক্ষ যন্ত্রপাতির ব্যবহার নিশ্চিতকরণ এবং মনোনীত ভোক্তা শিল্পপ্রতিষ্ঠানে জ্বালানির যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিতের লক্ষ্যে জ্বালানি নিরীক্ষা কার্যক্রম জোরদার করা হবে।
বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী ফ্যাসিবাদী সরকারের অপরিকল্পিত বিদ্যুৎ ও জ্বালানি নীতির কঠোর সমালোচন করেন। এসময় তিনি বলেন, এ খাতে সীমাহীন দুর্নীতি, লুটপাট, অব্যবস্থাপনা ও অনিয়মের ফলে বিদ্যুতের উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে। ক্যাপাসিটি চার্জের নামে বিদ্যুৎ খাতে হরিলুট ও অর্থ পাচার হয়েছে। এ সময়ে সম্পাদিত বেশ কিছু মেগা প্রকল্পে একতরফা ও বিতর্কিত শর্ত যুক্ত থাকায় বিদ্যুৎ আমদানি ও ক্রয়ে অতিরিক্ত ব্যয়ের বোঝা বর্তমান বিএনপি সরকারের ওপর চেপে বসেছে।
অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, শিল্পোৎপাদনসহ প্রায় সকল অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রধান চালিকাশক্তি হলো নিরবচ্ছিন্ন ও সাশ্রয়ী বিদ্যুৎ। জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর অতি মাত্রায় নির্ভরতাও এ খাতে ব্যয় বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। উৎপাদন ব্যয় ও বিক্রয়মূল্যের পার্থক্যের কারণে চলতি অর্থবছরে এ খাতে ভর্তুকির পরিমাণ ৪০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে। বর্তমানে দেশের স্থাপিত বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ২৮ হাজার ৯১৯ মেগাওয়াট (আমদানি ও অন-গ্রিড নবায়নযোগ্যসহ) হলেও নিরবচ্ছিন্ন ও মানসম্পন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ এখনো নিশ্চিত হয়নি।
নবায়নযোগ্য বিকল্প জ্বালানির উৎস (বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ, বায়ু ও সমুদ্রস্রোত) থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য সম্ভাব্যতা যাচাই কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে বলেও জানান অর্থমন্ত্রী।
এসআর