ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার পাশাপাশি আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ত্রুটিগুলো সংশোধন করে প্রতিষ্ঠানটির সেবা কার্যক্রম অব্যাহত রাখার দাবি জানিয়েছেন নিহত নবজাতকদের একজনের বাবা হাবিবুর রহমান।
শনিবার রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ দাবি জানান। সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও নিহত শিশুদের পরিবারের সদস্যরা।
হাবিবুর রহমান বলেন, এটি ছিল তার তৃতীয় সন্তান। এর আগে তার প্রথম দুই সন্তানও একই হাসপাতালে স্বাভাবিকভাবে জন্মগ্রহণ করেছিল। হাসপাতালের সেবায় সন্তুষ্ট থাকায় এবারও তিনি সেখানে চিকিৎসা নিতে যান।
তিনি বলেন, “আমরা চাই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত হোক এবং যারা দায়ী তাদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হোক। একই সঙ্গে হাসপাতালের যেসব ত্রুটি রয়েছে, সেগুলো দ্রুত সংশোধন করে সেবা কার্যক্রম চালু রাখা হোক।”
সংবাদ সম্মেলনে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধিদের পাশাপাশি নিহত শিশুদের পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় হাসপাতালের আইনজীবী ও সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শিশির মনিরও বক্তব্য দেন।
বক্তারা নবজাতকদের মৃত্যুর ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান।
সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শিশির মনির বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো এবং আদ্-দ্বীন হাসপাতাল—উভয়ই চান না হাসপাতালটি বন্ধ হয়ে যাক বা ক্ষতিগ্রস্ত হোক। তবে এ ঘটনার জন্য দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। তিনি জানান, পাঁচ সদস্যের অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে এক নার্স ও আরেক কর্মীর পেশাগত ঘাটতি পাওয়া গেছে। এর ভিত্তিতে তাঁদের সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনাকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ‘অপ্রত্যাশিত অবহেলা’র ফল বলে মনে করছে।
শিশির মনির আরও বলেন, হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের বিষয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দেওয়া নোটিশ বেআইনি। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য আজীবন বিনা মূল্যে চিকিৎসা, সম্মানজনক আর্থিক ক্ষতিপূরণ এবং পরিবারের যোগ্য সদস্যদের চাকরির সুযোগ নিশ্চিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, ঈদুল আজহার আগের দিন (২৭ মে) ভোরে মগবাজারে আদ্-দ্বীন হাসপাতালের পোস্ট-অপারেটিভ ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন ছয়টি নবজাতক আকস্মিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ে। এর অল্প সময়ের ব্যবধানে একে একে ছয় শিশুরই মৃত্যু হয়। পরে ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর পক্ষ থেকে ওই দিনই হাসপাতালের বিরুদ্ধে চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ এনে রমনা থানায় একটি মামলা করা হয়। গত বুধবার স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয় গঠিত তদন্ত কমিটি তাদের প্রতিবেদন জমা দেয় এবং পরদিন স্বাস্থ্য অধিদপ্তর গঠিত কমিটি তাদের চূড়ান্ত রিপোর্ট পেশ করে।
এদিকে, ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে ওই দিনই কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। দ্য মেডিকেল প্র্যাকটিস অ্যান্ড প্রাইভেট ক্লিনিকস অ্যান্ড ল্যাবরেটরিজ অর্ডিন্যান্সের বিধান লঙ্ঘন করায় কেন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল করা হবে না, তা জানতে চেয়ে এই নোটিশ দেওয়া হয়। নোটিশ জারির ৭২ ঘণ্টার মধ্যে অর্থাৎ আগামীকাল রোববার (৭ জুন) বিকেল ৪টার মধ্যে হাসপাতালটির মালিককে এই নোটিশের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
এসআর