স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়া সন্দেহের জেরে ঘুমন্ত ছোট ভাইকে কুপিয়ে হত্যা করেছে আপন বড় ভাই। শুক্রবার সকালে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লার ধর্মগঞ্জ চতলার মাঠ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পরপরই পালিয়ে যায় বড় ভাই উজ্জ্বল।
নিহত মোঃ মোহন (৩২) এবং তার বড় ভাই উজ্জ্বল (৩৪) ধর্মগঞ্জ চতলার মাঠ, সোনার বাংলা রোডের ফাজিল পাড়া এলাকার মোঃ বাবুল মিয়ার ছেলে।
প্রতিবেশীরা জানান, উজ্জ্বল মাদকাসক্ত ছিলেন। এ কারণে পরিবারের কেউ তার সঙ্গে বেশি কথা বলতেন না এবং অনেকটা এড়িয়ে চলতেন। তার ছোট ভাই গার্মেন্টসে ভালো বেতনে কাজ করতেন। পরিবারের সবার মতো উজ্জ্বলের স্ত্রীও মোহনকে গুরুত্ব দিতেন এবং ভালোবাসতেন। এ বিষয়টিকে উজ্জ্বল স্ত্রীর সঙ্গে মোহনের পরকীয়া সম্পর্ক বলে সন্দেহ করতেন। এ নিয়ে উজ্জ্বল প্রায়ই বাড়িতে ঝগড়া করতেন। পারিবারিক এ সমস্যা নিয়ে তিনি প্রতিবেশীদের সঙ্গেও আলোচনা করতেন।
তাদের বাবা বাবুল মিয়া জানান, তার দুই ছেলে ও এক মেয়ে। বড় ছেলে উজ্জ্বল কিছুদিন ইজিবাইক চালিয়েছেন। বর্তমানে একটি ওয়ার্কশপে ওয়েল্ডিংয়ের কাজ করতেন। আর ছোট ছেলে মোহন গার্মেন্টসে কাজ করতেন।
তিনি আরও জানান, প্রায়ই বড় ছেলের স্ত্রী অভিযোগ করতেন যে উজ্জ্বল ঘরে বসে নেশা করেন। তিনি বলতেন, “যখন নেশা করতে বসবে, আমাকে ডেকে দেখাবে।” তবে এ পর্যন্ত বড় ছেলের স্ত্রী তাকে নেশা করতে দেখাতে পারেননি।
শুক্রবার ফজরের নামাজ পড়ে বাড়ির কাছে একটি চায়ের দোকানে বসে ছিলেন তিনি। ওই সময় বড় ছেলে উজ্জ্বলকে বাড়ি থেকে বের হয়ে দৌড়ে পালিয়ে যেতে দেখেন। পরে বাড়িতে গিয়ে তিনি ছোট ছেলে মোহনের রক্তাক্ত নিথর দেহ ঘরের মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখেন। দ্রুত তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। কী কারণে ঘুমন্ত অবস্থায় মোহনকে বটি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে, তা তিনি জানেন না। তবে নেশার কারণে পরিবারে উজ্জ্বলের ওপর চাপ ছিল বলে জানান তিনি।
ফতুল্লা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহাবুবুর আলম জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে পারিবারিক কলহের জেরেই এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে এবং অভিযুক্তকে গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
এসএস/আরএন