গাজীপুরের কালীগঞ্জে নিখোঁজের পাঁচ দিন পর শীতলক্ষ্যা নদী থেকে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাচালক অমৃত চন্দ্র সরকার আশিক (২৫)-এর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ সময় ছিনতাইকৃত অটোরিকশা ও একটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেন কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জাকির হোসেন। এর আগে আটক তিনজনকে গাজীপুর আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কালীগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. রিয়াদুল ইসলাম জানান, কালীগঞ্জ উপজেলার মোক্তারপুর ইউনিয়নের রাথুরা এলাকার বাসিন্দা আশিক গত ১৬ ফেব্রুয়ারি বিকেলে নিজের ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন। প্রতিদিনের মতো কাজের উদ্দেশ্যে বের হলেও সেদিন তিনি আর বাড়িতে ফেরেননি। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তাঁর কোনো সন্ধান পাননি। তাঁর ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।
পরবর্তীতে ২১ ফেব্রুয়ারি বিকেলে স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পাওয়া যায়, মোক্তারপুর এলাকায় শীতলক্ষ্যা নদীর তীরে একটি মরদেহ ভাসছে। খবর পেয়ে কালীগঞ্জ থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে নদীর পানিতে ভাসমান অবস্থায় মরদেহটি উদ্ধার করে। পরে স্বজনরা মরদেহটি নিখোঁজ অটোরিকশাচালক আশিকের বলে শনাক্ত করেন।
সুরতহাল প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, নিহতের বুকের ডান পাশের পাঁজরের নিচে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন ছিল এবং গলায় একটি চামড়ার বেল্ট বাঁধা অবস্থায় পাওয়া যায়। প্রাথমিকভাবে পুলিশ ধারণা করছে, দুর্বৃত্তরা অটোরিকশা ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে তাঁকে হত্যা করে মরদেহ গুম করার জন্য নদীতে ফেলে দেয়। নিহতের অটোরিকশার মূল্য আনুমানিক ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং মোবাইল ফোনের মূল্য প্রায় ২০ হাজার টাকা।
এ ঘটনায় নিহতের পরিবার বাদী হয়ে কালীগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করলে পুলিশ তদন্ত শুরু করে। তদন্তের অংশ হিসেবে গাজীপুরের কালিয়াকৈর ও ঢাকার তুরাগ থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে সেলিম মিয়া (২৩), মো. আলামিন (২৬) ও মো. ছাইফুল ইসলাম (৩৬)-কে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তাঁদের কাছ থেকে ছিনতাইকৃত অটোরিকশা, নিহতের মোবাইল ফোন এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।
ওসি মো. জাকির হোসেন জানান, গ্রেফতার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং তাঁদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত অন্য কেউ আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এসআর/আরএন