জামালপুরের মাদারগঞ্জে মাত্র ৫০০ টাকা বাজি ধরে একটি জীবন্ত শালিক পাখি ছিঁড়ে কাঁচা মাংস খাওয়ার অভিযোগে সাদুল্লাহ (৫০) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ।
বুধবার দুপুরে উপজেলার কোয়ালিকান্দি মধ্যপাড়ায় নিজ বাড়ি থেকে তাঁকে আটক করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মাদারগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) স্নেহাশীষ রায়।
আটক সাদুল্লাহ ওই এলাকার হাফিজলের ছেলে। তিনি পেশায় একজন ইজিবাইকচালক।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার বিকেলে কোয়ালিকান্দি বাজারে মাত্র ৫০০ টাকা বাজি ধরে একটি জীবন্ত শালিক পাখি ছিঁড়ে কাঁচা মাংস খান সাদুল্লাহ। বুধবার সকালে জীবন্ত শালিক পাখি ছিঁড়ে খাওয়ার ওই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। পরে তাঁকে নিজ বাড়ি থেকে আটক করে পুলিশ।
স্থানীয় বাসিন্দা মকবুল হোসেন জানান, বুধবার সকালে ফেসবুকে জীবন্ত পাখি খাওয়ার একটি ভিডিও দেখেন তিনি। ভিডিওতে দেখা যায়, সাদুল্লাহ নামের এক ব্যক্তি জীবন্ত পাখিটি হাতে নিয়ে এর পা ও ডানা মুচড়ে ভেঙে ফেলছেন। এ সময় পাখিটি নড়াচড়া করছিল। পরে তিনি পাখিটি ছিঁড়ে ছিঁড়ে খেয়ে ফেলেন। ঘটনাটি দেখতে সেখানে অনেক লোক জড়ো হন। তাঁদের কেউ কেউ সাদুল্লাহর পাখি খাওয়ার দৃশ্য দেখে উল্লাস করেন। এ ঘটনায় মানুষের মধ্যে মানবিকতার ব্যাপক ঘাটতি প্রকাশ পেয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
জীবন্ত পাখির প্রতি এমন নিষ্ঠুর আচরণের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিকভাবে এ ধরনের অমানবিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সচেতন মহল ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। তাঁদের মতে, নিছক বাজি কিংবা বিনোদনের নামে প্রাণীর প্রতি নিষ্ঠুর আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
জেলার পরিবেশ ও বন্য প্রাণী সংরক্ষণে কাজ করা স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘বিহঙ্গ’-এর সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান রবিন বলেন, “যেখানে অল্প টাকায় পশুর মাংস পাওয়া যায়, সেখানে নিরীহ বন্য প্রাণী কেন খেতে হবে, তাও আবার জীবন্ত? এসব মানুষের মধ্যে রুচিবোধের অভাব তৈরি হয়েছে। তাঁদের মধ্যে নীতি, নৈতিকতা ও মানবিকতা বলতে কিছু নেই।”
তিনি আরও বলেন, বন্য প্রাণী ধরা ও মারা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। বন্য প্রাণী সংরক্ষণে সরকারের পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রচারণা চালানো দরকার। এ ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি।
মাদারগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) স্নেহাশীষ রায় বলেন, “সাদুল্লাহকে আটক করে থানায় নেওয়া হয়েছে। বন্য প্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সমন্বয় করে তাঁর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এলএইচ/আরএন