ফ্রান্সে বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে সহিংসতা, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনায় প্রায় ১ হাজার ৫০০ দোকান ও খুচরা বিক্রয়কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দেশটির সরকারের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৭ অক্টোবর দেশজুড়ে প্রায় ৫ লাখ ৫০ হাজার মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেন। এ সময় ১ হাজার ৮০০ জনের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
রোববার (১৮ অক্টোবর) দেশটির খুচরা ব্যবসায়ী ও বাণিজ্য ফেডারেশনের প্রধান জানান, বিক্ষোভ চলাকালে ক্ষতিগ্রস্ত অনেক দোকানে লুটপাট চালানো হয়েছে। অন্যদিকে, ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ জানিয়েছেন, শান্তিপূর্ণ মিছিলের আশপাশে সংঘটিত অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনায় ১ হাজার ৮০০ জনের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
১৭ অক্টোবরের বিক্ষোভ ঘিরে সহিংসতার ঘটনায় সরকারের ভূমিকা নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েছে ফরাসি প্রশাসন। বিরোধী দলগুলোর পাশাপাশি কয়েকটি শহরের মেয়রও পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের পদক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে দাবি করেছেন, ‘ফ্রান্স জ্বলছে’। অভিবাসনের কারণে দেশটি ‘বিধ্বস্ত’ হয়ে পড়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
চলমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার জন্য রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ৫টায় এলিসি প্রাসাদে মন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠকে বসার কথা রয়েছে ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁর। পরে রাত ৮টায় জাতির উদ্দেশে আনুষ্ঠানিক ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর। প্রেসিডেন্টের দপ্তর এ তথ্য জানিয়েছে।
অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়াঁ লেকর্নুর সভাপতিত্বে সোমবার সকাল ১০টায় আন্তমন্ত্রণালয় পর্যায়ের সংকট মোকাবিলা টাস্কফোর্সের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে রোববার সন্ধ্যা ৭টায় বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও সময়সূচিগত জটিলতার কারণে তা পিছিয়ে দেওয়া হয়।
এ ছাড়া ফ্রান্সের জাতীয় পরিষদের প্রেসিডেন্ট ইয়েল ব্রাউন-পিভে মঙ্গলবার একটি সংসদীয় তদন্ত কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেবেন। সহিংসতা ও লুটপাটের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কৌশল এবং পরিস্থিতি মোকাবিলায় কোনো ঘাটতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখবে প্রস্তাবিত এই কমিটি।
এদিকে, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন ও কাতার সফরে সোমবার যাওয়ার কথা রয়েছে প্রেসিডেন্ট মাখোঁর। তবে চলমান পরিস্থিতির মধ্যে তাঁর সফরসূচিতে কোনো পরিবর্তনের ঘোষণা এখনো দেওয়া হয়নি।
সূত্র: ফ্রান্স২৪
-টিএস