ENGLISH EPAPER 📍 ঢাকা 📅 সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩ তথ্য অধিদফতর নিবন্ধন নম্বর ০৬
শিরোনাম
Advertisement
বকেয়া ৫৫৫ কোটি টাকা, সেবার মান নিয়ে চাপে বাংলালিংক
✎ বিশেষ প্রতিনিধি
⏲ প্রকাশিত: রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:২৪ পিএম
সংগৃহীত ছবি
X
Advertisement

সংগৃহীত ছবি

সরকারের কাছে ৫৫৫ কোটি টাকা বকেয়া, নেটওয়ার্কের দুর্বলতা, গ্রাহক অভিযোগ ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার জরিমানার কারণে বাড়তি নজরদারির মুখে রয়েছে মোবাইল অপারেটর বাংলালিংক।

ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনামের জাতীয় সংসদে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বাংলালিংক ডিজিটাল কমিউনিকেশনসের কাছে সরকারের পাওনা ৫৫৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে নিরীক্ষা-সংক্রান্ত দাবি বাবদ ৪৩০ কোটি টাকা এবং রাজস্ব ভাগাভাগির অর্থের ওপর অপরিশোধিত মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) বাবদ ১২৫ কোটি টাকা রয়েছে।

অন্যদিকে, অপারেটরটির নেটওয়ার্কের কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) সেপ্টেম্বরে প্রকাশিত এক মূল্যায়নে দেখা গেছে, পরীক্ষায় অন্তর্ভুক্ত চারটি মোবাইল অপারেটরের মধ্যে বাংলালিংকের ২জি ভয়েস কলে কলড্রপের হার ছিল সর্বোচ্চ। প্রতিবেদনে শিল্পখাতজুড়ে নেটওয়ার্ক কাভারেজ, ভয়েস কলের মান ও ইন্টারনেট সেবায়ও বিভিন্ন ঘাটতির কথা উঠে এসেছে।

গ্রাহকদের অভিযোগও সেবার মান নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। বিটিআরসির তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত বাংলালিংকের বিরুদ্ধে ৮ হাজার ৭১১টি অভিযোগ জমা পড়েছে। এ সময়ে চারটি অপারেটরের বিরুদ্ধে মোট অভিযোগ ছিল ৬৬ হাজার ৭০৫টি।

অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে দুর্বল নেটওয়ার্ক কাভারেজ, কলড্রপ, ধীরগতির ইন্টারনেট, বিল নিয়ে বিরোধ এবং অপ্রত্যাশিতভাবে মোবাইল ব্যালেন্স কেটে নেওয়া।

এ ছাড়া অবৈধ ভয়েস ওভার ইন্টারনেট প্রটোকল (ভিওআইপি) কার্যক্রমে ব্যবহারের অভিযোগে সিমকার্ড শনাক্ত হওয়ার পর বিটিআরসির জরিমানার মুখেও পড়ে বাংলালিংক। ২০২৬ সালের জুলাইয়ে এ ঘটনায় চারটি অপারেটরকে জরিমানা করা হয়। বাংলালিংকের ক্ষেত্রে এ ধরনের কার্যক্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ১ হাজার ৮৫৯টি সিমকার্ড শনাক্তের পর ১ কোটি ৮৬ লাখ টাকা জরিমানা করে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি। টেলিযোগাযোগ জালিয়াতি প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় সুরক্ষাব্যবস্থা বাস্তবায়নে ব্যর্থতার অভিযোগও আনা হয়।

এদিকে, চারটি মোবাইল অপারেটরের সুদ বাবদ প্রায় ১৫২ কোটি টাকা মওকুফের অভিযোগ নিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) একটি মামলা রয়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখিত হিসাব অনুযায়ী, ওই অর্থের মধ্যে বাংলালিংকের অংশ প্রায় ৫৭ কোটি ৮৮ লাখ টাকা। অভিযোগটি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাবেক এক কর্মকর্তাকে ঘিরে। তবে এ অভিযোগের ভিত্তিতে বাংলালিংক নিজেই অনিয়ম করেছে এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই।

বিটিআরসি বকেয়া পাওনা আদায়ে পদক্ষেপ নিচ্ছে। একই সময়ে কলড্রপ, দুর্বল নেটওয়ার্ক এবং সেবার অসামঞ্জস্যপূর্ণ মান নিয়ে গ্রাহকদের অভিযোগ অব্যাহত রয়েছে। বকেয়া অর্থ, নিয়ন্ত্রক সংস্থার জরিমানা ও গ্রাহক অভিযোগ মিলিয়ে বাংলালিংকের কার্যক্রম এখন বাড়তি পর্যালোচনার মুখে।

এএইচ/এসএস
Advertisement
Loading...
Loading...
আরো দেখুন
সম্পাদক: ইকবাল সোবহান চৌধুরী
অবজারভার লিমিটেডের পক্ষে সম্পাদক কর্তৃক গ্লোব প্রিন্টার্স, ২৪/এ, নিউ ইস্কাটন রোড, রমনা, ঢাকা থেকে প্রকাশিত।
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:আজিজ ভবন (৩য় তলা), ৯৩, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা (সি/এ), ঢাকা-১০০০।

ফোন: পিএবিএক্স- ৪১০৫৩০০১-০৬; বিজ্ঞাপন: ৪১০৫৩০১২; ০১৭৯৩৩১৭৮২৯, ০১৫৫০৭০৭২৯১, ই-মেইল: [email protected], ‍[email protected] অনলাইন: ৪১০৫৩০১৪; ০১৫৫০৭০৭২৯৭ ই-মেইল: [email protected] ০১৫৫০৭০৭২৯৬
🔝
Advertisement