শুষ্ক মৌসুমে অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি এড়াতে ১৩টি পরামর্শ দিয়েছে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স। অসাবধানতা থেকে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
তাই আগুন প্রতিরোধে আগে থেকেই সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।
রোববার (১৮ অক্টোবর) ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সুলতানুল আফরীন জুনাইদ শুষ্ক মৌসুমে অগ্নিদুর্ঘটনার ঝুঁকি এড়াতে বেশ কিছু পরামর্শ দিয়েছেন।
অগ্নিদুর্ঘটনা প্রতিরোধে আইন মেনে চলা, ভবনের অগ্নিনিরাপত্তা নিশ্চিত করা, গ্যাস ও বিদ্যুতের সংযোগ নিয়মিত পরীক্ষা করা এবং অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম প্রস্তুত রাখাসহ ১৩টি পরামর্শ দেন তিনি।
আগুন প্রতিরোধে ১৩ করণীয়
১. অগ্নি প্রতিরোধ ও নির্বাপণ আইন, ২০০৩ এবং এ-সংক্রান্ত অন্যান্য আইন ও বিধিমালা অনুসরণ করে অগ্নিনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
২. ভবন নির্মাণের সময় ফায়ার সেফটি প্ল্যান গ্রহণ করতে হবে। পরিকল্পনায় থাকা সব শর্ত যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে।
৩. রান্না শেষে চুলা ও গ্যাসের সংযোগ বন্ধ রাখতে হবে। গ্যাসের চুলা নেভাতে ফুঁ দেওয়া যাবে না; চুলার নব ভালোভাবে বন্ধ করতে হবে।
৪. ধূমপানের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হবে। বিড়ি-সিগারেটের জ্বলন্ত অংশ সম্পূর্ণ নিভিয়ে নির্ধারিত নিরাপদ স্থানে ফেলতে হবে।
৫. শিশুদের আগুন থেকে দূরে রাখতে হবে। ছোট শিশুদের আগুন, দিয়াশলাই ও লাইটার নিয়ে খেলতে দেওয়া যাবে না।
৬. দাহ্যবস্তুর কাছে আগুন ব্যবহার করা যাবে না। দাহ্যবস্তুর গুদামে খোলা বাতি ও মশার কয়েল ব্যবহার থেকে বিরত থাকতে হবে। অন্যান্য স্থানেও এসব ব্যবহারে সতর্ক থাকতে হবে।
৭. রান্নাঘরে বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা রাখতে হবে। গ্যাসের চুলা জ্বালানোর আগে রান্নাঘরের দরজা-জানালা খুলে দিতে হবে। গ্যাস জমে থাকা অবস্থায় চুলা জ্বালানো অত্যন্ত বিপজ্জনক।
৮. বৈদ্যুতিক সংযোগ, বৈদ্যুতিক তার, সুইচ ও যন্ত্রপাতি নিয়মিত পরীক্ষা করতে হবে। ত্রুটিপূর্ণ তার ব্যবহার এবং অতিরিক্ত বৈদ্যুতিক লোড এড়িয়ে চলতে হবে।
৯. বাসাবাড়ি, কলকারখানা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে প্রয়োজন অনুযায়ী অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র স্থাপন করতে হবে। এসব যন্ত্রের ব্যবহার জানতে হবে এবং নিয়মিত অগ্নিনিরাপত্তা মহড়া আয়োজন করতে হবে।
১০. অগ্নিনিরাপত্তা বিষয়ক প্রশিক্ষণ নিন। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের মাধ্যমে অগ্নিপ্রতিরোধ, অগ্নিনির্বাপণ, উদ্ধারকাজ ও প্রাথমিক চিকিৎসাবিষয়ক প্রশিক্ষণ নেওয়া যেতে পারে।
১১. দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা ঘরে প্রবেশে সতর্ক থাকতে হবে। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা ফ্ল্যাট, বসতঘর বা প্রতিষ্ঠানে প্রবেশের পর দরজা-জানালা খুলে পর্যাপ্ত সময় বাতাস চলাচলের সুযোগ দিতে হবে। গ্যাসের গন্ধ পেলে বা গ্যাস জমে থাকার আশঙ্কা থাকলে বৈদ্যুতিক সুইচ চালু করা, আগুন জ্বালানো কিংবা দিয়াশলাই ব্যবহার করা যাবে না। নিরাপদ স্থানে সরে গিয়ে জরুরি সহায়তা নিতে হবে।
১২. জরুরি নম্বর সংরক্ষণ করুন। নিকটস্থ ফায়ার স্টেশনের যোগাযোগ নম্বর সংগ্রহ করে রাখতে হবে। জরুরি প্রয়োজনে ফায়ার সার্ভিসের হটলাইন ১০২ অথবা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ যোগাযোগ করতে হবে।
১৩. হোটেল-রেস্তোরাঁয় অগ্নিনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। হোটেল ও রেস্তোরাঁয় গ্যাস সিলিন্ডার, গ্যাসের চুলা এবং বৈদ্যুতিক সংযোগ নিয়মিত পরীক্ষা করতে হবে। পাশাপাশি অগ্নিনিরাপত্তাবিধি যথাযথভাবে অনুসরণ করতে হবে।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের মহাপরিচালক আরও বলেন, অগ্নিদুর্ঘটনা ঘটার পর ব্যবস্থা নেওয়ার চেয়ে আগেই ঝুঁকি চিহ্নিত করে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া বেশি কার্যকর। তাই নিজের নিরাপত্তার পাশাপাশি পরিবারের সদস্য, সহকর্মী ও আশপাশের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও সবাইকে সচেতন হতে হবে। জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকা এবং অগ্নিনিরাপত্তার নিয়ম মেনে চলার মাধ্যমে অগ্নিদুর্ঘটনার ঝুঁকি কমানো সম্ভব।