গাজীপুর মহানগরীর কোনাবাড়ীতে একটি মন্দিরের ভেতরে পবিত্র কুরআনে আগুন দেওয়ার অভিযোগে মো. ইউসুফ আলী নামে ২৮ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ।
রোববার (১৮ অক্টোবর) সকালে আমবাগ এলাকার শ্রী শ্রী রাধা গোবিন্দ কেন্দ্রীয় মন্দিরে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ।
স্থানীয় সূত্র ও মন্দির কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার সময় ইউসুফ আলীর সঙ্গে তাঁর ছোট ছেলেও ছিল। মন্দিরে প্রবেশের পর একপর্যায়ে তিনি প্রতিমার সামনে সিজদার ভঙ্গিতে শুয়ে পড়েন। পরে নিজের ব্যাগ থেকে একটি পবিত্র কুরআন বের করে তাতে আগুন ধরিয়ে দেন বলে অভিযোগ করা হয়।
বিষয়টি নজরে আসার পর মন্দিরের নিরাপত্তাকর্মীরা তাঁকে আটক করেন। ঘটনাস্থলে উপস্থিত পুলিশ সদস্যরাও এ সময় এগিয়ে আসেন এবং আগুন নিভিয়ে ফেলা হয়। পরে পুলিশ অভিযুক্ত ব্যক্তি ও তাঁর ছেলেকে হেফাজতে নেয়।
মন্দিরের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি নির্মল কর্মকার জানান, ওই ব্যক্তি ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে মন্দিরে এসেছিলেন। কুরআন শরিফে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটলে নিরাপত্তাকর্মীরা তাঁকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন।
কোনাবাড়ী থানার ওসি মো. ইফতেখার হোসেন বলেন, অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এ সময় তিনি অসংলগ্ন কথাবার্তা বলছেন। এর আগেও একই ধরনের ঘটনা ঘটানোর বিষয়ে কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। তবে সেসব তথ্য যাচাই করে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
স্থানীয়দের কেউ কেউ দাবি করেছেন, ইউসুফ আলী কয়েক বছর ধরে মানসিক সমস্যায় ভুগছেন। তবে এ দাবির পক্ষে চিকিৎসাসংক্রান্ত কোনো নথি বা নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে তাঁর মানসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই।
এ ঘটনায় এলাকায় কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়নি বলে জানা গেছে। মন্দির ও আশপাশের এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার প্রকৃত কারণ ও আগের কোনো ঘটনার সঙ্গে অভিযুক্তের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এফএস