উচ্চ কমিশন, নানা ধরনের ফি, পেমেন্টে বিলম্ব, রাইডারদের ভোগান্তি ও জরিমানার অভিযোগে চট্টগ্রামের রেস্তোরাঁ মালিকদের ক্ষোভের মুখে এবার গণমাধ্যমকে প্রভাবিত করার অভিযোগে নতুন করে আলোচনায় এসেছে ফুড ডেলিভারি প্ল্যাটফর্ম ফুডপ্যান্ডা। কমিশন বিতর্কের রেশ কাটতে না কাটতেই প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে ওঠা এ অভিযোগ নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
একটি সূত্রের দাবি, চলমান সমালোচনা সামাল দিতে জনসংযোগ (পিআর) এজেন্সির মাধ্যমে গণমাধ্যমের ওপর প্রভাব বিস্তার এবং সংবাদ ব্যবস্থাপনার কৌশল নেওয়া হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, ফুডপ্যান্ডার নিয়োগ করা পিআর এজেন্সি বিভিন্ন গণমাধ্যমের সঙ্গে যোগাযোগ করে সমালোচনামূলক সংবাদ প্রকাশ না করা কিংবা প্রকাশিত সংবাদ সরিয়ে ফেলার জন্য নানা কৌশল অবলম্বন করছে।
চট্টগ্রামের রেস্তোরাঁ মালিকদের অভিযোগ, ফুডপ্যান্ডার কমিশন, বিজ্ঞাপন ব্যয় ও বিভিন্ন ফি বাবদ কোনো কোনো ক্ষেত্রে বিক্রির ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ পর্যন্ত অর্থ কেটে নেওয়া হয়। এ ছাড়া পেমেন্টে বিলম্ব, রাইডারদের অপেক্ষার চার্জ এবং অর্ডার বাতিল বা গ্রাহককে অর্থ ফেরতের ঘটনায় আর্থিক ক্ষতির অভিযোগও তুলেছেন তাঁরা।
বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির চট্টগ্রাম মহানগর ইউনিটের দাবি, এসব ব্যয়ের কারণে বিশেষ করে ছোট ও মাঝারি রেস্তোরাঁগুলোর মুনাফা কমে যাচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে কমিশনসহ সব ধরনের চার্জ সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশে সীমিত করা এবং সাত দিনের মধ্যে পাওনা পরিশোধের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
সমিতির সাধারণ সম্পাদক মনজুরুল হকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ইতোমধ্যে অন্তত ১২০টি রেস্তোরাঁ ফুডপ্যান্ডা বয়কট করেছে। সামনে আরও রেস্তোরাঁ এ কর্মসূচিতে যুক্ত হতে পারে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
চট্টগ্রামের রেস্তোরাঁ মালিকদের সঙ্গে বিরোধের বিষয়ে ফুডপ্যান্ডা জানিয়েছে, তারা রেস্তোরাঁগুলোর সঙ্গে পৃথক চুক্তির ভিত্তিতে কার্যক্রম পরিচালনা করে এবং অংশীদারদের উদ্বেগ সমাধানে সরাসরি আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, তাদের সেবা বন্ধ হয়ে গেলে রেস্তোরাঁর বিক্রি, ডেলিভারি রাইডারদের আয় এবং গ্রাহকদের সেবাপ্রাপ্তি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
অন্যদিকে, রেস্তোরাঁ মালিকেরা কমিশন ও বিভিন্ন ফি কমানো, সময়মতো পেমেন্ট এবং জরিমানা ও অপেক্ষার চার্জের নীতিমালা পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়ে আসছেন। কিছু রেস্তোরাঁ বিকল্প ডেলিভারি প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হওয়ার পাশাপাশি সরাসরি অর্ডার নেওয়ার দিকেও ঝুঁকছে বলে জানা গেছে।