বিশ্বব্যাপী কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বেসরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোর অর্থনৈতিক অগ্রগতি ত্বরান্বিত করতে সরকারি অর্থায়নের পাশাপাশি বেসরকারি মূলধন, প্রযুক্তি ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের সমন্বিতভাবে কাজে লাগানোর তাগিদ দিয়েছে বিশ্বব্যাংক গ্রুপ।
থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে ১২ থেকে ১৮ অক্টোবর অনুষ্ঠিত আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংক গ্রুপের বার্ষিক সম্মেলনে এ তাগিদ দেওয়া হয়। সম্মেলনের পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনের বিভিন্ন বৈঠকে বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক সংকটের নানা বিষয়ও উঠে আসে। এ সময় উল্লেখ করা হয়, বিশ্বে যুদ্ধ-সংঘাতের কারণে জ্বালানি সংকটের প্রভাব বহন করতে হচ্ছে নিম্ন আয়ের দেশগুলোকে। বিশেষ করে মূল্যস্ফীতি ও উচ্চ সুদের কারণে নিম্ন আয়ের দেশগুলোর ঋণ পরিশোধের চাপ বেড়েছে। এ অবস্থায় সর্বজনীন জ্বালানি ভর্তুকি বা মূল্য নিয়ন্ত্রণের চেয়ে নির্দিষ্ট ও সময় সীমাবদ্ধ রাজস্ব পদক্ষেপগুলোতে প্রাধান্য দেওয়া উচিত। এ সম্মেলনে যোগদান করেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অর্থমন্ত্রী, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরসহ শীর্ষ কর্মকর্তারা। বাংলাদেশের পক্ষে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল অংশ নেয়। সম্মেলনে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে অর্থনৈতিক অগ্রগতি, সংস্কার কার্যক্রম ও সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে অতিরিক্ত ১০ বিলিয়ন ডলার ঋণ সহায়তা চাওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এ সংস্কার পরিকল্পনার প্রতি উভয় সংস্থা ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করেছে। সম্মেলন সভায় বিশ্বব্যাংক প্রধান বাংলাদেশের জন্য পৃথক কোনো লক্ষ্যমাত্রা ঘোষণা করেননি, তবে অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা দূর করা, নীতির ধারাবাহিকতা রক্ষা, ব্যবসার পরিবেশ উন্নত করা এবং ডিজিটাল আর্থিক ব্যবস্থার সম্প্রসারণের মাধ্যমে বেসরকারি ও বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণের বড় সুযোগ রয়েছে বলে উল্লেখ করেন। উন্নয়ন অর্থায়নকে কেবল ঋণের অঙ্কে না মেপে তা কতটা টেকসই কর্মসংস্থান সৃষ্টি করছে-সেটিকে মূল মানদন্ড করার আহ্বান জানানো হয়েছে। সভায় বাংলাদেশ সম্পর্কে বিশ্বব্যাংক গ্রুপ প্রধান অজয় বাঙ্গা বলেন, বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা দূর করার পাশাপাশি নীতির ধারাবাহিকতা, ব্যবসার পরিবেশ, বৈদেশিক মুদ্রার ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা এবং প্রকল্প বাস্তবায়নের সক্ষমতা বাড়ানো প্রয়োজন। বিশ্ব অর্থনীতির দুই শীর্ষ সংস্থার পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে বক্তব্যে বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গা বলেন, বিভিন্ন উন্নয়ন অর্থায়নের ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে সরকারি অর্থ, বেসরকারি বিনিয়োগ, দাতব্য সহায়তা ও প্রযুক্তির সমন্বয়ের ওপর। ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থান সংকটের এক উদ্বেগজনক চিত্র তুলে ধরেন। তিনি বলেন, আগামী ১০ থেকে ১৫ বছরে বিশ্বে ১২০ কোটি তরুণ কর্মবাজারে প্রবেশ করবে। অথচ একই সময়ে কর্মসংস্থানের পূর্বাভাস রয়েছে মাত্র ৪০ কোটির। ফলে প্রায় ৮০ কোটি কাজের সুযোগের ব্যবধান তৈরি হবে। এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বৃহৎ পরিসরে কর্মসংস্থান সৃষ্টির উদ্যোগ নেওয়ার কোনো বিকল্প নেই। অজয় বাঙ্গা বলেন, ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি (এসএমই) উদ্যোগকে কর্মসংস্থানের প্রধান ভিত্তি হিসেবে চিহ্নিত করে বিশ্বব্যাংক নতুন কৌশল গ্রহণ করেছে। বেসরকারি বিনিয়োগ আকর্ষণে কেবল অর্থায়ন নয়, বরং নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ, পানি, পরিবহন, ডিজিটাল সংযোগ এবং দক্ষ জনবল তৈরির ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
এসএস