দিনাজপুরের পুলিশ সুপারসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ইউনিফর্ম পরিহিত ছবি ও পরিচয় ব্যবহার করে প্রতারণার অভিযোগে চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
সোমবার (১২ অক্টোবর) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টায় রাজশাহী থেকে একজনকে এবং মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দুপুরে রাজশাহী ও নাটোরের বিভিন্ন স্থান থেকে আরও তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত ছয়টি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন মো. নাঈম ইসলাম (২৩), মো. রিন্টু আলী (২৯), মো. আশিকুর রহমান (১৯) ও মো. রজব আলী (২৩)।
দিনাজপুর ডিবি পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ আলমগীর হোসেন মঙ্গলবার রাত ৮টায় সংবাদমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সোমবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে রাজশাহীর বাঘা থানা পুলিশের সহায়তায় বাঘা থানার সুলতানপুর গ্রামে অভিযান চালিয়ে নাঈম ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাঁর কাছ থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত একটি অ্যান্ড্রয়েড ও একটি বাটন মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।
পরে নাঈমের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলবার দুপুর পৌনে ১টার দিকে নাটোরের লালপুর থানার মোহরকয়া গ্রামে অভিযান চালিয়ে রিন্টু আলীকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর কাছ থেকেও একটি অ্যান্ড্রয়েড ও একটি বাটন মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।
পুলিশ জানায়, রিন্টুর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলবার বিকেল ৩টার দিকে নাটোরের লালপুর থানার মির্জাপুর গ্রাম এবং রাজশাহীর বাঘা থানার জোতরাঘব গ্রামে অভিযান চালানো হয়। এ সময় আশিকুর রহমান ও রজব আলীকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশের দাবি, রিন্টু আলী দিনাজপুরের পুলিশ সুপারের ইউনিফর্ম পরিহিত ছবি ব্যবহার করে ০১৩২২-৫১১১৮৬ নম্বরের সিম দিয়ে পরিচালিত একটি হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট ব্যবহারের কথা স্বীকার করেছেন।
প্রাথমিক অনুসন্ধান ও জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, চক্রটি পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নাম ও ছবি ব্যবহার করে অন্যের নামে নিবন্ধিত সিমকার্ডের মাধ্যমে হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট পরিচালনা করত। এসব অ্যাকাউন্টে নিজেদের পুলিশ কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা এবং বিভিন্ন মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে।
দিনাজপুরের পুলিশ সুপার মো. জেদান আল মুসা জানান, জব্দ করা মোবাইল ফোন, সিমকার্ড ও অন্যান্য তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনা করে চক্রটির অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
এএইচ/আরএন