মুন্সীগঞ্জ জেলা বিএনপি এখন মহাসংকটে। কার্যত কমিটিহীন অবস্থায় রয়েছে দলটি। গঠিত আহ্বায়ক কমিটির আহ্বায়ক সাবেক মন্ত্রী মিজানুর রহমান মৃত্যুবরণ করেছেন।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করে বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ায় প্রাথমিক সদস্যপদসহ সদস্য সচিব মো. মহিউদ্দিনকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
২০২৫ সালের ৬ জুন ৫৯ সদস্য বিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি গঠনের পর থেকেই কমিটিতে স্থান পাওয়া অনেক নেতাকে নিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি হয়। এরই মধ্যে এই আহ্বায়ক কমিটির বয়স ১৩ মাস অতিক্রম করেছে।
মুন্সীগঞ্জ-১ ও মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে এবং বিএনপির প্রতীক ‘ধানের শীষের’ বিপক্ষে নির্বাচন করায় আহ্বায়ক কমিটির অন্তত ১১ থেকে ১২ জন সদস্যকে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই সঙ্গে উপজেলা ও ইউনিয়ন বিএনপির কমিটি বিলুপ্তসহ আরও কয়েকজন নেতাকে বহিষ্কার করা হয়।
২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর ১৮ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সরকার গঠন করে।
স্থানীয় তিন সংসদ সদস্য বর্তমানে এলাকায় সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন ও অগ্রগতি নিয়ে ব্যস্ত রয়েছেন। কিন্তু দল পরিচালনা বা নেতৃত্ব দেওয়ার মতো কার্যকর কমিটি না থাকায় মুন্সীগঞ্জ জেলা বিএনপি সাংগঠনিক সংকটে রয়েছে।
কার্যত কমিটি না থাকায় দিনদিন সাংগঠনিক গতি হারাচ্ছে দলটি। দ্রুত নতুন কমিটি গঠনের দাবি জানিয়েছেন মুন্সীগঞ্জের তৃণমূল বিএনপির নেতাকর্মীরা।
তাদের দাবি, পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির সাবেক ছাত্রনেতা ও যোগ্য নেতৃত্বের সমন্বয়ে নতুন কমিটি গঠন করা হোক। একই সঙ্গে স্বেচ্ছাসেবক দল, জাসাস, কৃষকদলসহ অঙ্গসংগঠনগুলোর কমিটিতেও নতুন নেতৃত্বের দাবি উঠেছে।
স্থানীয় নেতাকর্মীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে একই ব্যক্তিরা এসব অঙ্গসংগঠনের নেতৃত্বে থাকলেও তাদের দলীয় কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা নেই।
এ বিষয়ে মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. কামরুজ্জামান রতন বলেন, “মুন্সীগঞ্জ জেলা বিএনপির বিষয়টি মাননীয় চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অবগত আছেন। কমিটি গঠনের দায়িত্ব মাননীয় চেয়ারম্যানের। তিনি মুন্সীগঞ্জ বিএনপির সাংগঠনিক কাঠামো তৈরি করে দেবেন বলে আশাবাদী।”
মুন্সীগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও জেলা পরিষদের প্রশাসক এ কে এম ইরাদত মানু বলেন, “দলের চেয়ারম্যান সাহেব যখন মনে করবেন, তখন জেলা বিএনপির নতুন কমিটি হবে এবং নতুন নেতৃত্ব আসবে।”
এসআর