ENGLISH EPAPER 📍 ঢাকা 📅 বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬, ২৫ আষাঢ় ১৪৩৩
শিরোনাম
Advertisement
সুস্থ হয়ে ওঠা সেই বাঘিনী নিজ বনভূমিতে ফিরে যাচ্ছে রোববার
✎ অবজারভার প্রতিনিধি
⏲ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই, ২০২৬, ৬:৫২ পিএম
X Advertisement

সম্পূর্ণ সুস্থ হওয়া বাঘিনীকে সুন্দরবনের গহীনে ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শিকারীর ফাঁদ থেকে উদ্ধার হওয়া বাঘিনী তার আবাসস্থল সুন্দরবনে ফিরে যাচ্ছে আগামী রোববার (১২ জুলাই)। সম্প্রতি বাঘটিকে সুন্দরবনে অবমুক্ত করার বিষয়ে বন বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও প্রাণী বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

এর আগে গত ২১ মে বাঘটিকে সুন্দরবনে অবমুক্ত করার বিষয়ে বন বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও প্রাণী বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে একটি জুম সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় বাঘিনীটিকে সুন্দরবনে ছেড়ে দেওয়ার বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে মতভেদ সৃষ্টি হয়। বিশেষজ্ঞদের একটি অংশের মত, বাঘিনীটি বয়সে প্রবীণ হওয়ায় বনে ছাড়ার পর তার গতিবিধি নজরদারিতে রাখা প্রয়োজন। সে কারণে স্যাটেলাইট কলার কিংবা মাইক্রোচিপের মতো প্রযুক্তি ব্যবহারের প্রস্তাব দেওয়া হয়।

বিশেষজ্ঞদের অপর পক্ষের মতে, বাঘিনীটির জীবনকাল শেষ পর্যায়ে চলে এসেছে। ফলে বন্য পরিবেশে অন্যান্য পশুর সঙ্গে লড়াইয়ে টিকে থাকার সম্ভাবনা কম। এ পরিস্থিতিতে সুস্থ হওয়ার পর প্রাণীটিকে বনে ছাড়ার বদলে কোনো সাফারি পার্কে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়।

এদিকে প্রাণীটির খাদ্য ও চিকিৎসায় মাসে ২ লাখ টাকার বেশি ব্যয় হচ্ছে। বাঘিনীটিকে প্রতিদিন ৪-৫ কেজি ফ্রেশ মাংস খেতে দিতে হচ্ছে। এই ব্যয় বহন করাও বন বিভাগের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে। বন অধিদপ্তরের বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ অঞ্চলের বন সংরক্ষক ছানাউল্যা পাটওয়ারী বলেন, বাঘের জীবনকাল সর্বোচ্চ ১৫ বছর পর্যন্ত হতে পারে। এই বাঘিনীর বয়স ১০ থেকে ১১ বছর। দীর্ঘ চিকিৎসার পর প্রাণীটি হারানো ক্ষিপ্রতা ও গতি ফিরে পেয়েছে। বর্তমানে এর ওজন প্রায় ৯০ কেজি।

বন বিভাগ সূত্র জানায়, পূর্ব সুন্দরবনে শিকারীর ফাঁদে আটক রয়েল বেঙ্গল টাইগারটি দীর্ঘ ৬ মাসের চিকিৎসা শেষে ১২ জুলাই ফিরে যাচ্ছে তার আবাসস্থল সুন্দরবনে। ওই দিন সকালে বাঘিনীকে পূর্ব সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের আন্ধারমানিক বনাঞ্চলে ছেড়ে দেওয়া হবে। বাঘটিকে সুন্দরবনে অবমুক্ত করার জন্য অভিজ্ঞ ও প্রখ্যাত বন্যপ্রাণী চিকিৎসক, বাঘ বিশেষজ্ঞ এবং বন বিভাগের কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে চারটি দল গঠন করা হয়েছে।

এ ছাড়া বাঘিনীর গতিবিধি দেখার জন্য সুন্দরবনে ৮ কিলোমিটারজুড়ে স্থাপন করা হচ্ছে ২০টি ক্যামেরা। গুরুতর আহত বাঘিনীটি দীর্ঘ চিকিৎসায় এখন পুরোপুরি সুস্থ।

বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের ৩ জানুয়ারি দুপুরে সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জের শরকিরখালের অদূরে সুন্দরবনে শিকারীদের পেতে রাখা হরিণ ধরার ছিটকা ফাঁদে আটকে পড়ে একটি বয়স্ক বাঘিনী। গুরুতর আহত অবস্থায় বাঘিনীকে বন বিভাগের বিশেষজ্ঞ দল ৪ জানুয়ারি উদ্ধার করে। খুলনার বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের পুনর্বাসনকেন্দ্রে পাঁচ সদস্যের মেডিকেল বোর্ড বাঘিনীকে চিকিৎসা ও নিবিড় পরিচর্যা করেন।

বন অধিদপ্তরের ভেটেরিনারি চিকিৎসক হাতেম সাজ্জাত জুলকারনাইন বলেন, উদ্ধারকালে বাঘিনীটি ছিল নিস্তেজ, দুর্বল ও ক্ষীণকায়। তাঁর ভাষ্য, সামনের বাঁ পায়ে প্রায় ৩ ইঞ্চি জায়গাজুড়ে চামড়া, মাংসপেশি ও শিরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। ফাঁদের রশিতে টানাটানির কারণে ক্ষতস্থানে পচন ধরেছিল। অ্যান্টিবায়োটিক ও নিয়মিত ড্রেসিংয়ের ফলে মার্চ মাসের দিকে ঘা শুকিয়ে আসে। বর্তমানে ক্ষতস্থান ভরাট হয়ে সেখানে লোমও গজিয়েছে।

জানতে চাইলে সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগ, বাগেরহাটের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. রেজাউল করীম চৌধুরী বলেন, আগামী রোববার (১২ জুলাই) সকালে সুন্দরবনের আন্ধারমানিক ইকোট্যুরিজম কেন্দ্রের বনাঞ্চলে বাঘটিকে ছেড়ে দেওয়া হবে। ওই দিন খুলনা থেকে নদীপথে বাঘিনীকে আন্ধারমানিক ইকোট্যুরিজম কেন্দ্রে নেওয়া হবে বলে ডিএফও জানান।

বন বিভাগের খুলনা অঞ্চলের বন সংরক্ষক (সিএফ) ইমরান আহমেদ বলেন, সুস্থ হয়ে বাঘিনীটি আগের চেহারায় ফিরেছে। ৯ ফুট দৈর্ঘ্যের বাঘিনীর ওজন বেড়ে হয়েছে ৯০ কেজি। তার ক্ষিপ্রতা বেড়েছে। সে এখন শিকার ধরে খেতে পারবে।

তিনি বলেন, বনে ছাড়ার পরে সুন্দরবনে বাঘের গতিবিধি পর্যবেক্ষণের জন্য বাঘিনীটির গলায় একটি কলার পরানোর সিদ্ধান্ত হয়েছিল। কিন্তু বিভিন্ন জটিলতায় বিদেশ থেকে সেটি আনা সম্ভব হয়নি। এখন বনে ছাড়ার পরে তার গতিবিধি দেখার জন্য ক্যামেরা ট্র্যাপিং করা হবে। সে লক্ষ্যে আন্ধারমানিক বনাঞ্চলের ৮ কিলোমিটারজুড়ে ২০টি গোপন ক্যামেরা বসানোর কাজ শুরু হয়েছে। ২০২৪ সালে ক্যামেরা ট্র্যাপিংয়ে বাঘিনীটিকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে তিনবার শনাক্ত করা হয়েছিল। সুন্দরবনে বাঘ ছেড়ে দেওয়ার সময় বন ও পরিবেশ প্রতিমন্ত্রীসহ বন বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও বাঘ বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত থাকবেন বলে সিএফ জানিয়েছেন।

জানতে চাইলে বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ, খুলনার বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) নির্মল কুমার পাল জানান, বাঘটিকে সুন্দরবনে অবমুক্ত করার জন্য অভিজ্ঞ ও প্রখ্যাত বন্যপ্রাণী চিকিৎসক, বাঘ বিশেষজ্ঞ এবং বন বিভাগের কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে চারটি দল গঠন করা হয়েছে।

এগুলো হলো— বাঘের স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য মেডিকেল দল, বাঘের মানসিক ও আচরণগত সক্ষমতা পরীক্ষার জন্য বাঘ বিশেষজ্ঞ দল, বাঘটিকে ধরা, অবমুক্তকরণের স্থানে পরিবহন ও অবমুক্ত করার জন্য একটি বিশেষায়িত দল এবং বাঘের নিরাপত্তা ও বনের পার্শ্ববর্তী জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য অবমুক্ত-পরবর্তী বাঘের গতিবিধি নজরদারির জন্য একটি পর্যবেক্ষণ দল গঠন করা হয়েছে।

এরা অন্তত এক বছর ধরে বাঘ অবমুক্তকরণ এলাকার চারপাশে বাঘের গতিবিধি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবে।

এসএমএস/এসআর


Advertisement
Loading...
Loading...
আরো দেখুন
Editor : Iqbal Sobhan Chowdhury
Published by the Editor on behalf of the Observer Ltd. from Globe Printers, 24/A, New Eskaton Road, Ramna, Dhaka.
Editorial, News and Commercial Offices : Aziz Bhaban (2nd floor), 93, Motijheel C/A, Dhaka-1000.

Phone: PABX- 41053001-06; Online: 41053014; 01550707296 Advertisement: 41053012; 01550707291, E-mail: [email protected] [email protected]
🔝