গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে সৃষ্ট পাহাড়ধসে চট্টগ্রাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে অন্তত ৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু।
বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ৩০০ বিধিতে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি এ তথ্য জানান।
ত্রাণমন্ত্রী বলেন, পাহাড়ধস ও ভারী বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় সরকার জরুরি সহায়তা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। দুর্গত এলাকায় আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের খাদ্য ও নগদ সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারী মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো কাজ করছে।
আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, গত কয়েক দিন বৃষ্টির কারণে চট্টগ্রাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম, কক্সবাজারসহ বিস্তীর্ণ অঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। সেখানে পাহাড়ধসে বেশ কিছু প্রাণহানি ঘটেছে। চট্টগ্রামে পাহাড়ধসে পাঁচ, কক্সবাজারে ১৯, রাঙামাটিতে এক ও বান্দরবানে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, ইতিমধ্যে এসব দুর্গত এলাকায় আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। চট্টগ্রামে ৪১১, কক্সবাজারে ৬৪০, রাঙামাটিতে ২১, খাগড়াছড়িতে ১৩৫ ও বান্দরবানে ২২০টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। নগদ টাকা ও খাদ্যসহায়তা দেওয়া হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার লোকজনকে নিরাপদ আশ্রয়ে নেওয়ার জন্য মাইকিং করা হচ্ছে। আশ্রয়কেন্দ্রে সুপেয় পানি ও খাবারের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
মন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী পরস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করছেন, দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণভান্ডার থেকে প্রতি জেলায় ২০ লাখ টাকা করে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, প্রয়োজনে আরও জরুরি বরাদ্দ দেওয়া হবে।
ত্রাণমন্ত্রী বলেন, পাহাড়ধসে প্রাণহানি রোধে স্থানীয় জনগণের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে সংসদ সদস্যদের সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে। এ ছাড়া জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রতিটি জেলায় ১০০ টন চাল ও দুই লাখ টাকা করে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
এসআর