রাজধানীর মোহাম্মদপুরের অভিজাত আবাসিক এলাকা জাপান গার্ডেন সিটিতে টানা তিন দিন ধরে বিদ্যুৎ নেই। বিকল ট্রান্সফরমারের কারণে সৃষ্ট এই বিদ্যুৎ সংকট এখন বাসিন্দাদের জন্য বড় ধরনের ভোগান্তিতে পরিণত হয়েছে। বিদ্যুৎ না থাকায় লিফট, পানির সরবরাহ, ইন্টারনেট সেবা এবং দৈনন্দিন জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
বাসিন্দাদের অভিযোগ, গত মঙ্গলবার (৭ জুলাই) জাপান গার্ডেন সিটির নিজস্ব ৩৩ কেভি সাবস্টেশনের একটি ট্রান্সফরমার বিকল হওয়ার পর থেকেই পুরো আবাসিক এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ মেরামতের কাজ চলছে বলে জানালেও কবে নাগাদ বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হবে, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য দিতে পারেনি।
জাপান গার্ডেন সিটির বাসিন্দা লাবনী বলেন, তার ছেলে অর্নব এবার ক্যামব্রিয়ান কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। কিন্তু টানা কয়েকদিন বিদ্যুৎ না থাকায় পড়াশোনা ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। বাধ্য হয়ে পরিবার নিয়ে তিনি সাময়িকভাবে ফার্মগেটে এক স্বজনের বাসায় চলে যাচ্ছেন।
তিনি বলেন, ‘‘বিদ্যুৎ না থাকায় লিফট বন্ধ, পানির সংকট দেখা দিয়েছে। প্রচণ্ড গরমে ঘরে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেক পরিবার ইতোমধ্যে বাসা ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছে।’’
বাসিন্দারা জানান, বিদ্যুৎ না থাকায় ফ্রিজে রাখা খাবার নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি বাসা থেকে অফিসের কাজ (হোম অফিস), অনলাইন কার্যক্রম ও ইন্টারনেট সেবাও ব্যাহত হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিরা। প্রচণ্ড গরমে রাতে ঘুমাতেও পারছেন না অনেকে।
এদিকে ট্রান্সফরমার মেরামত করে কবে নাগাদ বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হবে, সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এখনো স্পষ্ট কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি। এতে বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ ও অনিশ্চয়তা বাড়ছে।
এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কাউকে পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে স্থানীয় বিদ্যুৎ বিতরণ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জাপান গার্ডেন সিটির নিজস্ব সাবস্টেশনের ত্রুটির বিষয়ে তাদের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো সহযোগিতা চাওয়া হয়নি। এ কারণে তারা সরাসরি কোনো ব্যবস্থা নিতে পারেননি।
সব মিলিয়ে টানা কয়েকদিনের বিদ্যুৎ বিভ্রাটে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন জাপান গার্ডেন সিটির ৩ হাজারের বেশি বাসিন্দা। দ্রুত ট্রান্সফরমার মেরামত করে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি এড়াতে স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়েছেন তারা।
এসআর