স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রতিটি ভোটকক্ষে ভোটারের সংখ্যা ৫০ শতাংশ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ লক্ষ্যে ‘স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচনে ভোটকেন্দ্র স্থাপন ও ব্যবস্থাপনা নীতিমালা’ সংশোধন করে জারি করা হয়েছে।
নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, সিটি করপোরেশন, উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রতি ৬০০ জন পুরুষ ভোটারের জন্য একটি ভোটকক্ষ নির্ধারণ করা হবে। আগে প্রতি ৪০০ জন পুরুষ ভোটারের জন্য একটি ভোটকক্ষ নির্ধারিত ছিল।
একইভাবে নারী ভোটারের ক্ষেত্রেও ভোটকক্ষের সংখ্যা পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। আগে ৩০০ থেকে ৩৫০ জন নারী ভোটারের জন্য একটি ভোটকক্ষ রাখা হলেও এখন প্রতি ৫০০ জন নারী ভোটারের জন্য একটি ভোটকক্ষ নির্ধারণ করা হবে।
ইসির হিসাব অনুযায়ী, কোনো ভোটকেন্দ্রে শতভাগ ভোটার উপস্থিত হলে নতুন ব্যবস্থায় ভোট দেওয়ার জন্য একজন পুরুষ ভোটার গড়ে ৪৮ সেকেন্ড এবং একজন নারী ভোটার গড়ে ৫৮ সেকেন্ড সময় পাবেন।
ভোটকক্ষে ভোটারের সংখ্যা বাড়লেও ভোটগ্রহণ কার্যক্রম সহজ করতে একাধিক গোপন ভোটদান স্থান বা ‘মার্কিং প্লেস’ স্থাপনের সুযোগ রাখা হয়েছে। সাধারণ ও উপনির্বাচনের ক্ষেত্রেও একই নিয়মে ভোটকেন্দ্র ও ভোটকক্ষ নির্ধারণ করা হবে।
তবে গড়ে প্রতি দুই হাজার ভোটারের জন্য একটি ভোটকেন্দ্র স্থাপনের আগের নিয়ম বহাল রাখা হয়েছে। পাশাপাশি প্রতিটি ওয়ার্ডে অন্তত একটি ভোটকক্ষ রাখার বিধানও অপরিবর্তিত রয়েছে।
সংশোধিত নীতিমালা অনুযায়ী, ভোটগ্রহণের অন্তত ২৫ দিন আগে ভোটকেন্দ্রের তালিকা গেজেট আকারে প্রকাশ করতে হবে।
ইসি কর্মকর্তারা জানান, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তুলনায় স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী সংখ্যা বেশি থাকে এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতাও বেশি হয়। এ ছাড়া চেয়ারম্যান, সংরক্ষিত নারী সদস্য ও সাধারণ সদস্য—এই তিনটি পদে ভোট হওয়ায় একাধিক ব্যালটে ভোট দিতে হয়। ফলে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ভোটগ্রহণে তুলনামূলক বেশি সময় লাগে।
তাদের মতে, ভোটকক্ষে ভোটার সংখ্যা বাড়ানোর ফলে ভোটার উপস্থিতি বেশি হলে ভোট দিতে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং ভোট গণনাতেও কিছুটা বেশি সময় লাগতে পারে।
তবে নির্বাচন কমিশনের যুক্তি, নতুন ব্যবস্থায় ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা অপরিবর্তিত থাকলেও ভোটকক্ষের সংখ্যা কমবে। এতে নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োজিত জনবল কম লাগবে এবং সরকারি ব্যয় সাশ্রয় হবে। কমিশনের ধারণা, ভোটার তালিকায় থাকা প্রবাসী, মৃত ভোটার এবং নির্বাচনী কাজে নিয়োজিত ব্যক্তিদের একটি অংশ ভোট দিতে আসেন না। ফলে প্রকৃত ভোটার উপস্থিতি বিবেচনায় নতুন নীতিমালায় বড় ধরনের জটিলতা তৈরি হবে না।
এসআর