ENGLISH EPAPER 📍 ঢাকা 📅 শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬, ১৪ ভাদ্র ১৪৩৩ তথ্য অধিদফতর নিবন্ধন নম্বর ০৬
শিরোনাম
Advertisement
নওগাঁয় ২৯৬ মিলিমিটার বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা, দুর্ভোগে শহরবাসী
✎ অবজারভার প্রতিনিধি
⏲ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই, ২০২৬, ৬:৪২ পিএম
X

টানা ২০ ঘন্টার বৃষ্টিতে নওগাঁ শহরের বিভিন্ন সড়ক, অলিগলি ও বাজার এলাকাসহ শহরের নিচু এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। শহরের বিভিন্ন এলাকার রাস্তা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বাসাবাড়ি, ব্যবসা-প্রতিষ্ঠানে পানি ঢুকে পড়ায় শহরবাসী চরম ভোগান্তিতে পড়েন। 

স্থানীয় আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানাগেছে, গতকাল বুধবার দুপুর ১২টা থেকে বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত জেলায় ২৯৬ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। চলতি মৌসুমে এক দিনে এটি সর্বোচ্চ বৃষ্টি। এর আগে গত ২৩ এপ্রিল এক দিনে ১৩২ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছিল।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, পৌর শহরের বিভিন্ন এলাকায় থাকা নালাগুলো অপরিকল্পিতভাবে নির্মাণ করা হয়েছে। এসব নালা ভরাট হয়ে গেলেও দীর্ঘ সময়েও পরিষ্কারের কোনো উদ্যোগ থাকে না। আবার অনেকেই রাস্তার ইট, সিমেন্ট, পাথরসহ বিভিন্ন মালামাল রাস্তার ওপর ফেলে নির্মাণ করছেন, যার কারণে নালাগুলো ভরাট হয়ে থাকে। ফলে অল্প বৃষ্টি হলেই নওগাঁ জেলা শহরের বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়।

বৃহষ্পতিবার (৯ জুলাই) দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত শহরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, গতকাল বিকেল ৩টা থেকে শুরু হওয়া টানা বৃষ্টিতে শহরের সিও অফিস, নওগাঁ সরকারি কলেজ চত্বর, বাজার এলাকার গোস্তহাটির মোড়, সুপারিপট্টি, চুরিপট্টি, বাটার মোড়, ডাবপট্টি ও পুরাতন হাসপাতাল রোড, ব্রিজের মোড়-কালিতলা সড়ক, ব্রিজের মোড়-ডিগ্রি কলেজ সড়ক, কাঁচাবাজার, বালুডাঙ্গা বাসস্টান্ড, বলিহার হাউজ-কাজীপাড়া সড়ক, গোস্তহাটির মোড়-কালিতলা সড়ক, আলুপট্টি-সুলতানপুর সড়ক, তাজের মোড়-বউ বাজার সড়ক, সরিষাহাটির মোড়-জনকল্যাণ মোড় সড়ক, মুক্তির মোড়-কেডির মোড় সড়কসহ একাধিক এলাকায় পানি জমে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। এতে ওই সব এলাকার ব্যবসায়ীসহ সাধারণ মানুষকে চরম দুর্ভোগে পড়েন।

এছাড়া নালার ময়লা-আবর্জনার সঙ্গে মিশে রাস্তার বৃষ্টির পানি আরও অস্বাস্থ্যকর হয়ে পড়ে। এই অস্বাস্থ্যকর পানির ওপর দিয়ে মানুষকে রাস্তা পার হতে দেখা গেছে। সড়কে বৃষ্টির পানি জমে জলাবদ্ধতার কারণে শহরের বাজার এলাকার বাটার মোড় ও সুপারিপট্টি এলাকায় যানজটের সৃষ্টি হয়। ব্রিজের মোড়-ডিগ্রি কলেজ সড়ক ও বলিহার হাউস-কাজীর মোড় সড়কে পানি জমে যাওয়ায় দুপুরে মৌসুমী বিদ্যালনিকেতন, ন্যাশন্যাল কিন্ডারগার্টেন, সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়, বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষার্থীদের পানি মাড়িয়ে চলাচল করতে দেখা যায়।

পৌরসভার পরিচ্ছন্নতা বিভাগ সূত্র জানায়, নওগাঁ পৌর শহরের ৯টি ওয়ার্ডে প্রতিদিন গড়ে ৬০-৮০ টন বর্জ্য তৈরি হয়। এর মধ্যে পলিথিন ও প্লাস্টিকজাত বর্জ্য থাকে ৩-৫ টন। শহরের বাজার এলাকাসহ বিভিন্ন মহল্লার মোড় থেকে ময়লা-আবর্জনা সংগ্রহ করে পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা শহরের বরুনকান্দি এলাকার ভাগাড়ে নিয়ে গিয়ে ফেলে থাকেন। এ ছাড়া আরও কয়েক টন গৃহস্থালির বর্জ্য বিচ্ছিন্নভাবে নালা-খালে ফেলা হচ্ছে। এতে শহরের প্রবহমান শহর খাল (টাউন খাল) ভাগাড়ে পরিণত হয় এবং অধিকাংশ নালা ভরাট হয়ে যায়। এ কারণে সামান্য বৃষ্টি হলেই শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে জলাবদ্ধতা দেখা দেয়।

শহরের সিও অফিস এলাকার বাসিন্দা আকবর হোসেন বলেন, ‘দিন দিন শহরটি বসবাসের অনুপযোগী হয়ে যাচ্ছে। সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তায় পানি জমে যায়। যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা ফেলা হচ্ছে। আবার নির্মাণাধীন ভবনের মালামাল রাস্তার ওপর, ড্রেনের ওপর দিনের দিন পড়ে থাকে। কিন্তু পৌর কর্তৃপক্ষ কিছু করছে বলে মনে হয় না। নাগরিক  সেবার কিছুই পাচ্ছি না।’

সরিষাহাটির মোড় এলাকার ব্যবসায়ীরা শাহীন আহম্মেদ অভিযোগ করে বলেন, ‘ড্রেনে জমে থাকা পলিথিন, প্লাস্টিকের বোতল ও অন্যান্য বর্জ্য নিয়মিত অপসারণ না করায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নের কথা বললেও দৃশ্যমান কোনো পরিবর্তন হয় না।’

নওগাঁ পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী সাজ্জাদ হোসেন বলেন, ‘পয়:বর্জ্য অপসারণের জন্য পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় পর্যায়ক্রমে পাকা, আধাপাকা  ও কাঁচা ড্রেন তৈরি করা হয়েছে। তারপরেও এখনও পৌরসভার অনেক এলাকায় আরও বেশি কিছু ড্রেন প্রয়োজন। তবে যেটুকু ড্রেন রয়েছে সেগুলোও আমাদের অসচেতনতার কারনে ভরাট হয়ে থাকে। পাশাপাশি পৌরসভার জনবলসংকটও সঠিকভাবে পয়:বর্জ্য অপসারণ না হওয়ার অন্যতম কারণ। অনেক ক্ষেত্রে বাসিন্দারা নির্ধারিত স্থানে বর্জ্য না ফেলে যেখানে-সেখানে ফেলছে। আবার অনেকেই নির্মাণধীন ভবনের জন্য ইট, বালু, পাথর রাস্তার ওপর ফেলে রাখে। এসব মালামাল ড্রেনে পড়ে সেগুলো ভরাট হয়ে থাকে। ফলে ভরাট ড্রেন দিয়ে পয়ঃবর্জ্য অপসারণ হয় না। যার ফলে শহরে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়।’

এদিকে টানা ২০ ঘন্টার বৃষ্টিতে নওগাঁর বিস্তৃর্ণ ফসলী মাঠ এখন আষাঢ় মাসের পানিতে টইটুম্বুর। পানি বাড়ছে নদীতেও। নওগাঁ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জেলা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ভারী বৃষ্টি ও উজান থেকে আসা পানিতে গত ২৪ ঘন্টায় নওগাঁ প্রধান নদী আত্রাইয়ের পানি বেড়েছে ১ দশমিক ৮৭ মিটার পর্যন্ত। পানি বাড়ার এই ধারা অব্যাহত থাকলে নওগাঁর নিম্নাঞ্চলে সাময়িক বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।

কেকেএইচ/এসআর
Advertisement
Loading...
Loading...
আরো দেখুন
সম্পাদক: ইকবাল সোবহান চৌধুরী
অবজারভার লিমিটেডের পক্ষে সম্পাদক কর্তৃক গ্লোব প্রিন্টার্স, ২৪/এ, নিউ ইস্কাটন রোড, রমনা, ঢাকা থেকে প্রকাশিত।
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:আজিজ ভবন (৩য় তলা), ৯৩, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা (সি/এ), ঢাকা-১০০০।

ফোন: পিএবিএক্স- ৪১০৫৩০০১-০৬; বিজ্ঞাপন: ৪১০৫৩০১২; ০১৭৯৩৩১৭৮২৯, ০১৫৫০৭০৭২৯১, ই-মেইল: [email protected], ‍[email protected] অনলাইন: ৪১০৫৩০১৪; ০১৫৫০৭০৭২৯৭ ই-মেইল: [email protected] ০১৫৫০৭০৭২৯৬
🔝