বিশ্বের ৫৮টি দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঘাটতি চীন ও ভারতের সঙ্গে।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে সংসদ সদস্য সাবিকুন নাহারের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, শিল্প খাতের কাঁচামাল, জ্বালানি পণ্য ও মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানির ওপর বাংলাদেশের কাঠামোগত নির্ভরশীলতার কারণে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যে এ ভারসাম্যহীনতা তৈরি হয়েছে।
সংসদে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ১৭ দশমিক ৮৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। একই সময়ে চীনে বাংলাদেশের রপ্তানি ছিল ৬৯৪ দশমিক ৪৯ মিলিয়ন ডলার। ভারী যন্ত্রপাতি, ইলেকট্রনিকস পণ্য ও শিল্পের কাঁচামাল আমদানির কারণে এ ঘাটতি তৈরি হয়েছে।
ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতির পরিমাণ ৭ দশমিক ৮৬ বিলিয়ন ডলার। এ সময়ে বাংলাদেশ ভারত থেকে বিপুল পরিমাণ তুলা, রাসায়নিক, খাদ্যপণ্য ও ভোগ্যপণ্য আমদানি করেছে। বিপরীতে ভারতে রপ্তানি হয়েছে ১ দশমিক ৭৬ বিলিয়ন ডলারের পণ্য।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে ৩ দশমিক ৫৯ বিলিয়ন ডলার, সিঙ্গাপুরের সঙ্গে ২ দশমিক ৮০ বিলিয়ন ডলার এবং মালয়েশিয়ার সঙ্গে ২ দশমিক ০১ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে। এছাড়া ভিয়েতনাম ও থাইল্যান্ডের সঙ্গেও উল্লেখযোগ্য ঘাটতি রয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর মধ্যে কাতারের সঙ্গে ২ দশমিক ১১ বিলিয়ন ডলার, সৌদি আরবের সঙ্গে ১ দশমিক ৩৬ বিলিয়ন ডলার এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে ১ দশমিক ১৯ বিলিয়ন ডলারের ঘাটতি রয়েছে।
এছাড়া ব্রাজিলের সঙ্গে ২ দশমিক ৪৫ বিলিয়ন ডলার, রাশিয়ার সঙ্গে ১ দশমিক ২৬ বিলিয়ন ডলার, তাইওয়ানের সঙ্গে ৮০৩ দশমিক ৯৮ মিলিয়ন ডলার এবং পাকিস্তানের সঙ্গে ৬৮১ দশমিক ৩০ মিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে বলে সংসদকে জানান বাণিজ্যমন্ত্রী।
তিনি বলেন, দেশের শিল্পায়ন ও উৎপাদন ব্যবস্থার চাহিদা পূরণে আমদানিনির্ভরতা কমানো এবং রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদে এই বাণিজ্য ঘাটতি কমিয়ে আনার চেষ্টা চলছে।
-টিএস