| BREAKING: |

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত নবম পে স্কেল বাস্তবায়নের কৌশল চূড়ান্ত করতে বৈঠক করেছে সচিব কমিটি। বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে জাতীয় বেতন কমিশনের সুপারিশ, সচিব কমিটির পর্যবেক্ষণ, জুডিশিয়াল সার্ভিস পে-কমিশনের প্রস্তাব এবং সশস্ত্র বাহিনীর বেতন কাঠামোসহ বিভিন্ন বিষয় পর্যালোচনা করা হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নতুন পে স্কেলে মূল বেতন সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে। তবে বর্তমানে দেওয়া বিশেষ সুবিধা (ইনসেনটিভ) নতুন মূল বেতনের সঙ্গে সমন্বয় করা হবে। ফলে আলাদাভাবে এ সুবিধা আর বহাল থাকবে না।
বর্তমানে ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীরা ১৫ শতাংশ এবং ১ম থেকে ৯ম গ্রেডের কর্মকর্তারা ১০ শতাংশ হারে বিশেষ সুবিধা পাচ্ছেন। নতুন কাঠামোতে এই সুবিধা একীভূত হওয়ায় কার্যকর বেতন বৃদ্ধি ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডে প্রায় ৩৫ শতাংশ এবং ১ম থেকে ৯ম গ্রেডে প্রায় ৪০ শতাংশ হতে পারে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, মূল বেতন বাড়ালে পেনশন, গ্র্যাচুইটি ও অন্যান্য অবসর সুবিধাও স্বয়ংক্রিয়ভাবে বৃদ্ধি পাবে।
প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে বেতন-ভাতা বাবদ ৮৯ হাজার ৮৩৬ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। পেনশন ও গ্র্যাচুইটিসহ মোট বরাদ্দ দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ২৫ হাজার ৫১৫ কোটি টাকা।
অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, অতিরিক্ত বরাদ্দের একটি অংশ থেকে প্রায় ৪৪ হাজার কোটি টাকা নবম পে স্কেল বাস্তবায়নে ব্যয় করার পরিকল্পনা রয়েছে।
সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী ১ জুলাই থেকে নবম পে স্কেল কার্যকর হতে পারে। তবে প্রশাসনিক ও আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্নে কিছুটা সময় লাগায় বর্ধিত বেতনের অর্থ চাকরিজীবীরা অক্টোবর মাসে পেতে পারেন।
সংশ্লিষ্টরা জানান, নবম পে স্কেল বাস্তবায়নে আরও কয়েকটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। পরবর্তী বৈঠক আগামী ২৪ জুন হওয়ার কথা রয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ১১ জুন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপনের সময় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নবম পে স্কেল বাস্তবায়নের ঘোষণা দেন।