খুলনার পাইকগাছা উপজেলার শিববাটি ব্রিজ থেকে কাটাখালী প্রধান সড়কের মাঠাম গেট সংলগ্ন এলাকায় কপোতাক্ষ নদ থেকে অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলনের মহোৎসব শুরু হয়েছে। এক সময়ের খরস্রোতা কপোতাক্ষ এখন নাব্যতা হারিয়ে চরম সংকুচিত। নদের এই মরণাপন্ন দশার সুযোগ নিয়ে প্রভাবশালী একটি চক্র ড্রেজার মেশিন বসিয়ে অবাধে বালু উত্তোলন করছে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ তুলেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিনের অনিয়ন্ত্রিত ভরাট ও দখলের কারণে নদীটি ইতোমধ্যে সংকীর্ণ খালে পরিণত হয়েছে। নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ না থাকায় পানির উৎস এমনিতেই হুমকির মুখে। এর ওপর নতুন করে ড্রেজার বসিয়ে বালু তোলায় নদীর অবশিষ্টাংশও চরম অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে।
সূত্র মতে, নদ থেকে উত্তোলিত বালু পাইপলাইনের মাধ্যমে পাশের প্রায় ৪-৫ একর আয়তনের একটি গভীর ঘেরে ফেলা হচ্ছে। একসময় মাছ চাষ ও প্রাকৃতিক পানি সংরক্ষণের গুরুত্বপূর্ণ জলাধার হিসেবে ব্যবহৃত হওয়া এই ঘেরটি এখন পরিকল্পিত ভাবে ভরাট করা হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ঘেরটি সম্পূর্ণ ভরাট করে সেখানে একটি নতুন ইট ভাটা স্থাপনের নীলনকশা চূড়ান্ত করা হয়েছে।
পরিবেশবিদ ও সচেতন মহলের মতে, কপোতাক্ষের এই মরণাপন্ন দশার মধ্যে অবৈধ বালু উত্তোলন এবং জলাশয় ভরাট পুরো এলাকার জন্য বড় ধরনের বিপর্যয় ডেকে আনবে। এর ফলে নদের অবশিষ্ট অংশের স্বাভাবিক পানি প্রবাহ সম্পূর্ণ বন্ধ হওয়া, তীব্র জলাবদ্ধতা, কৃষি জমির উর্বরতা নষ্ট এবং ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ার মতো মারাত্মক পরিবেশগত ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।
নদী ও পরিবেশের এমন প্রকাশ্য ক্ষতিসাধন সত্ত্বেও কীভাবে ড্রেজার বসিয়ে বালু তোলার সাহস পেল- তা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও প্রশ্ন তুলেছেন এলাকাবাসী। কপোতাক্ষের শেষ চিহ্নটুকু টিকিয়ে রাখতে তারা প্রশাসনের জরুরি ও কঠোর হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।
এ বিষয়ে পাইকগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ওয়াসিউজ্জামান চৌধুরী বলেন, 'কপোতাক্ষ নদের স্বাভাবিক প্রবাহ নষ্ট করে বা অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলনের কোনো সুযোগ নেই। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে।'
এএস/এমএ