ENGLISH EPAPER 📍 ঢাকা 📅 বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯ ভাদ্র ১৪৩৩ তথ্য অধিদফতর নিবন্ধন নম্বর ০৬
শিরোনাম
Advertisement
সেনেগালকে হারালো ফ্রান্স
✎ অবজারভার অনলাইন ডেস্ক
⏲ প্রকাশিত: বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬, ৮:৪১ এএম
X
Advertisement

প্রথমার্ধে সেনেগাল ভালো খেলেছে। ফ্রান্সই ছিল পিছিয়ে। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ায় ফরাসিরা। ম্যাচে লড়াই বেশি জমেছিল শেষের দিকে এসে।

শেষ সময়ে এসে ১৪ মিনিটের মধ্যে হয় তিন গোল। এর মধ্যে দুটি ফ্রান্সের, একটি সেনেগালের। এমন রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে ৩-১ গোলে জিতেছে ফ্রান্স। জোড়া গোল করে জয়ের নায়ক এমবাপে।

২০০২ বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে সেনেগালের কাছে হেরে বিদায় নিয়েছিলো ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স। এবারও প্রথমার্ধে যেভাবে ফরাসিদের কোণঠাসা করে ফেলেছিলেন সাদিও মানেরা, তাতে ২০০২ এর সেই ম্যাচের স্মৃতিই উঁকি দিচ্ছিল। তবে শেষ পর্যন্ত সেই জুজু অতিক্রম করেছে ফ্রান্স।

নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে প্রথমার্ধে একেবারেই ছন্নছাড়া ছিল ফ্রান্স। ম্যাচের প্রায় ২০ মিনিটের কাছাকাছি গিয়ে প্রথম শট নিতে পারে তারা। এর আগে একটি শট নিয়েছিল সেনেগালও। তবে কোনোটাই গোল হওয়ার মতো ছিল না।

২৫ মিনিটে কপালগুণে বেঁচে যায় ফ্রান্স। সেনেগালের ডিওফ অসাধারণ একটি থ্রু পাস বাড়িয়ে দেন জ্যাকসনের দিকে। একাই এগিয়ে গিয়ে তিনি কঠিন কোণ থেকে বাঁ পায়ের শট নেন।

বলটি পোস্টে লেগে গোলরক্ষক মেইনানের গায়ে প্রতিহত হয়ে কর্নারের বিনিময়ে মাঠের বাইরে চলে যায়। অল্পের জন্য বেঁচে যায় ফ্রান্স! তবে পরের কর্নার থেকে কোনো বিপদ তৈরি করতে পারেনি সেনেগাল।

৪০ মিনিটে আরেকটি সুযোগ পায় সেনেগাল। তবে ৩০ গজ দূর থেকে সাদিও মানের শটটি সরাসরি ফরাসি গোলরক্ষক মেইগনানের হাতে পড়ে। প্রথমার্ধে যোগ করা সময়ের শেষ মিনিটে বক্সের মাঝখানে পাস পেয়েও বল উপরে মেরে দেন মানে। ফলে গোলশূন্যই থাকে প্রথমার্ধ।

দ্বিতীয়ার্ধে স্বরূপে ফিরে ফ্রান্স, আক্রমণের ধার বাড়ায়। ৪৮ মিনিটে ডিজায়ার দুয়ে লম্বা পাসে দায়ত উপামেকানোর বল নিয়ন্ত্রণে নেন। এরপর প্রায় ২৫ গজ দূর থেকে জোরালো শট নেন তিনি। তবে বলটি বাঁ দিকের পোস্টের সামান্য বাইরে দিয়ে চলে যায়।

৫৪ মিনিটে মাইকেল ওলিসে চমৎকার দক্ষতায় সেনেগালের পেনাল্টি বক্সে ঢুকে পড়েন এবং গোলরক্ষক এডোয়ার্ড মেন্ডিকে পরাস্ত করতে বলটি আলতো করে জালে জড়ানোর চেষ্টা করেন। তবে মেন্ডি অসাধারণ ক্ষিপ্রতায় শরীর ছড়িয়ে দিয়ে শটটি ক্রসবারের ওপর দিয়ে পাঠিয়ে দেন।

এটি ছিল ফ্রান্সের জন্য বড় একটি গোলের সুযোগ। তবে পরের কর্নার থেকেও সুবিধা করতে পারেনি তারা। ওলিসের নেওয়া কর্নার বলটি সহজেই দুই হাতে ধরে ফেলেন মেন্ডি।

চার মিনিট পর আরেকটি আক্রমণ। মনে হচ্ছিল এবার বুঝি এগিয়ে যাচ্ছে ফ্রান্স। বলটি একেবারে একা পেয়ে যান কিলিয়ান এমবাপে। গোলরক্ষকের সঙ্গে ওয়ান-অন-ওয়ান পরিস্থিতিতে ফ্রান্সের এই তারকা ফরোয়ার্ডের শটটি দুর্দান্ত দক্ষতায় পা বাড়িয়ে ঠেকিয়ে দেন মেন্ডি।

৬৪ মিনিটে আবারও অল্পের জন্য মিস! মাইকেল ওলিসে ডান দিক থেকে ভেতরের দিকে কেটে এসে মাঝমাঠে থেকে নিখুঁত এক থ্রু পাস বাড়ান এমবাপের উদ্দেশে। এমবাপে বলের নাগাল পাওয়ার খুব কাছাকাছি গিয়েও শেষ পর্যন্ত স্পর্শ করতে পারেননি। মাত্র কয়েক ইঞ্চির জন্য সুযোগটি হাতছাড়া হয়।

৬৬ মিনিটে আর সুযোগ হাতছাড়া হয়নি। ওলিসে অসাধারণ এক নিখুঁত পাস বাড়িয়ে দেন পেনাল্টি এলাকার ডান দিকে। দুর্দান্ত টাইমিংয়ে দৌড়ে গিয়ে বলের নাগাল পান এমবাপে। এরপর প্রথম স্পর্শেই শট নিয়ে বলটি গোলরক্ষক মেন্ডিরকে পরাস্ত করে জালের বাঁ-দিকের নিচের কোণে পাঠিয়ে দেন। ১-০ গোলে এগিয়ে যায় ফ্রান্স।

দুই মিনিট পরই সমতায় ফিরতে পারতো সেনেগাল। নিকোলাস জ্যাকসন দারুণ গতিতে দৌড়ে পেনাল্টি বক্সে ঢুকে ওপর দিয়ে আসা বলটি নিয়ন্ত্রণে নেন। এরপর কোনো সুযোগ না দিয়েই প্রচণ্ড জোরালো শটে বল জড়িয়ে দেন জালের ওপরের বাঁ কোণে। মুহূর্তেই উল্লাসে ফেটে পড়ে সেনেগাল শিবির। কিন্তু আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি।

সহকারী রেফারির পতাকা উঠে যায়—জ্যাকসন অফসাইড! রিপ্লেতে দেখা যায়, তিনি একটু বেশিই তাড়াতাড়ি দৌড় শুরু করেছিলেন। ফলে গোলটি বাতিল করা হয় এবং স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে ফ্রান্স।

৮২ মিনিটে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় ফ্রান্স। আদ্রিয়ান রাবিওট এক নিখুঁত পাস বাড়ান ব্র্যাডলি বার্কোলার দিকে। বাম দিক থেকে দারুণভাবে ভেতরে ঢুকে ডান পাশের দিকে অবস্থান নেন বারকোলা। এরপর অসাধারণ দক্ষতায় গোলরক্ষকের মাথার ওপর দিয়ে আলতো করে বল জালে জড়ান তিনি।

ইনজুরি টাইমের পঞ্চম মিনিটে আশা ফিরে পেয়েছিল সেনেগাল। ইব্রাহিম এমবায়ে জোরালো শটে বল জালে পাঠান। ফ্রান্স গোলরক্ষক মাইক মাইগনান বলটি স্পর্শ করতে পারলেও আটকাতে পারেননি।

কিন্তু পরের মিনিটেই এমবাপের ঝলক। বক্সের অনেকটা বাইরে থেকে আচমকা শটে জাল কাঁপান এই ফরোয়ার্ড। ৩-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় ফ্রান্স। শেষ পর্যন্ত এই ব্যবধানেই জিতেছে তারা।

এমএ
Advertisement
Loading...
Loading...
আরো দেখুন
সম্পাদক: ইকবাল সোবহান চৌধুরী
অবজারভার লিমিটেডের পক্ষে সম্পাদক কর্তৃক গ্লোব প্রিন্টার্স, ২৪/এ, নিউ ইস্কাটন রোড, রমনা, ঢাকা থেকে প্রকাশিত।
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:আজিজ ভবন (৩য় তলা), ৯৩, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা (সি/এ), ঢাকা-১০০০।

ফোন: পিএবিএক্স- ৪১০৫৩০০১-০৬; বিজ্ঞাপন: ৪১০৫৩০১২; ০১৭৯৩৩১৭৮২৯, ০১৫৫০৭০৭২৯১, ই-মেইল: [email protected], ‍[email protected] অনলাইন: ৪১০৫৩০১৪; ০১৫৫০৭০৭২৯৭ ই-মেইল: [email protected] ০১৫৫০৭০৭২৯৬
🔝
Advertisement