পটুয়াখালীর দশমিনায় আওয়ামী যুবলীগ নেতাকে গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার (কাবিখা) প্রকল্পের বরাদ্দ দেওয়াকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
সোমবার (১৫ জুন) সন্ধ্যার পর উপজেলা যুবলীগের সহ-সভাপতি মো. মিজানুর রহমানের নামে বরাদ্দকৃত আদেশের কপির ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা মুহূর্তেই ভাইরাল হয়। এরপর থেকেই বিষয়টি নিয়ে তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
জানা যায়, ২০২৫–২৬ অর্থবছরের গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার কাবিটা ২য় পর্যায় কর্মসূচির আওতায় একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রকল্পটি আলীপুরা ইউনিয়নের সন্নামত বাড়ি হতে পশ্চিম দিকে মসজিদ অভিমুখে মাটি/বালি দ্বারা মাটির রাস্তা পুনর্নির্মাণের কথা উল্লেখ রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট আসনের (পটুয়াখালী-৩) সংসদ সদস্য ও প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক ৩ লাখ টাকার ওই প্রকল্পের বরাদ্দ দেন। বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি হিসেবে উপজেলা যুবলীগ নেতা মিজানুর রহমানের নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়া। তিনি ২০২১ সালের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আলীপুরা ইউনিয়ন থেকে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হন।
বরাদ্দপত্রে দেখা যায়, মিজানুর রহমানকে সভাপতি, আস্রাফ সন্নামতকে সম্পাদক এবং আরও তিনজনকে সদস্য করে কমিটি গঠন করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
উপজেলা বিএনপির সদ্য সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ফখরুজ্জামান বাদল বলেন, “বিএনপি জোটে তারেক রহমান এই আসনে গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি মো. নুরুল হককে মনোনয়ন দিয়েছিলেন। নির্বাচনের সময় তিনি পথসভায় বলেছিলেন— তারেক রহমান বিএনপি দেখবেন, আর আমি আওয়ামী লীগ দেখবো। এখন তো দেখছি সেটাই সত্যি হচ্ছে। দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে যারা ত্যাগ ও শ্রম দিয়ে দশমিনা–গলাচিপায় বিএনপি টিকিয়ে রেখেছেন, আজ তাদের বঞ্চিত করা হচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়ন না করলে সংগঠনের ক্ষতি হবে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আদেশপত্রটি ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই দশমিনা–গলাচিপায় বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা চলছে। তৃণমূল নেতাকর্মীদের দাবি, মাঠের ত্যাগী কর্মীদের মূল্যায়ন না করে বিগত সরকারের সুবিধাভোগীদের পুনর্বাসন করা হলে আন্দোলনের মূলধারা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সচিব আলহাজ্ব শাহআলম শানু বলেন, “বিষয়টি আমি দেখছি। আমি নিজেও ব্যক্তিগতভাবে হতবাক। এটি কীভাবে হলো, যারা এর সঙ্গে জড়িত তারাই বলতে পারবে। ঘটনাটি অনাকাঙ্ক্ষিত ও দুঃখজনক।”
উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক সিদ্দিক আহমেদ মোল্লা বলেন, “ঘটনাটি সত্য, তবে কাজটি ঠিক হয়নি। তিনি যুবলীগ করেন এবং আওয়ামী লীগের মনোনয়নে নৌকা প্রতীকে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছিলেন।”
অন্যদিকে, যুবলীগ নেতা মিজানুর রহমান তার ব্যক্তিগত ফেসবুক পোস্টে লেখেন, কাগজে মাটি বা বালির রাস্তার কথা উল্লেখ থাকলেও বাস্তবে নির্মাণ কাজে ইট ব্যবহার করা হচ্ছে, যাতে রাস্তা টেকসই হয়। জনগণের ট্যাক্সের অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা সংশ্লিষ্টদের দায়িত্ব বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে জনগণের অর্থ কতটা যথাযথভাবে ব্যয় হচ্ছে, তা পর্যবেক্ষণের দায়িত্ব এলাকাবাসীর। গণতান্ত্রিক সমাজে জবাবদিহিতা ও গঠনমূলক সমালোচনা উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ অংশ বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
এ বিষয়ে বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদ্য সাবেক সদস্য হাসান মামুন কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
সাংসদ ও প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হকের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। পরবর্তীতে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
এসআর