নওগাঁর পোরশায় জমে উঠেছে আমের বাজার। উপজেলার নোচনাহার বাজারসহ বিভিন্ন স্থানে এখন দিন-রাত চলছে আম কেনাবেচা। তবে উপজেলার নোচনাহার বাজার এখন এলাকার অন্যতম বৃহৎ আমবাজারে পরিণত হয়েছে।
প্রতিদিন ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত স্থানীয় আমচাষি, বাগানমালিক এবং দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীদের পদচারণায় মুখরিত থাকছে পুরো বাজার। এই বাজারসহ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে গড়ে ওঠা আমের আড়তগুলোতে ১ হাজার ৪৩ কোটি ৭০ লাখ টাকার আম বিক্রির সম্ভাবনা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
এ ছাড়া উপজেলার সরাইগাছী মোড়, কালাইবাড়ী বাজার, পোরশা আড়তের মোড় ও গাঙ্গুরিয়া বাজারসহ বিভিন্ন স্থানে চলছে আম কেনাবেচা। চলতি মৌসুমে এসব বাজারে বিভিন্ন জাতের আম কেনাবেচা হচ্ছে। আমবাজারে সবচেয়ে বেশি চাহিদা রয়েছে আম্রপালি, ব্যানানা ম্যাংগো, বারি-৪, ল্যাংড়া ও খিরসাপাত জাতের আমের। এ ছাড়া আরও কিছু সুস্বাদু জাতের আমও পাওয়া যাচ্ছে।
আমচাষিরা জানান, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার আমের ফলন মোটামুটি ভালো হয়েছে। তবে অন্যান্য বছরের তুলনায় কিছুটা কম। এ বছর আমের আকার বেশ আকর্ষণীয় হলেও রং কিছুটা খারাপ হয়েছে। এটি আবহাওয়াজনিত কারণে হতে পারে। তবে আমে তেমন কোনো সমস্যা নেই বলে জানিয়েছেন বিক্রেতা ও ক্রেতারা।
সরেজমিনে নোচনাহার আমবাজারসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিদিন শত শত অটোভ্যান ও ট্রলিতে করে চাষিরা তাঁদের বাগানের আম বিক্রির জন্য বাজারে নিয়ে আসছেন। আর ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা আড়তদার ও পাইকারি ব্যবসায়ীরা সরাসরি এখান থেকে আম সংগ্রহ করছেন।
তবে দাম নিয়ে চাষিদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন আমচাষি জানান, মৌসুমের শুরুতে আমের দাম কিছুটা কম থাকলেও বর্তমানে আমের মান অনুযায়ী দাম নির্ধারণ করা হচ্ছে। তবে ওজনে প্রায় ৪৮ কেজি দিতে হচ্ছে। অর্থাৎ প্রতি মণে ৮ কেজি বেশি দিতে হচ্ছে। এ কারণে তাঁদের খুব একটা লাভ হচ্ছে না।
তাঁরা জানান, এবার আম্রপালি আমের দাম মানভেদে প্রতি মণ ২ হাজার থেকে ৩ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে কিছুদিন পর এ আমের দাম আরও বাড়তে পারে বলে তাঁরা মনে করছেন।
অন্যদিকে পাইকারি ক্রেতারা বলছেন, নোচনাহার বাজারের আমের মান ভালো এবং যোগাযোগব্যবস্থা সুবিধাজনক হওয়ায় তাঁরা প্রতি বছরই এখান থেকে আম ক্রয় করতে আসেন। নিরাপত্তা ব্যবস্থাও ভালো বলে তাঁরা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মামুনুর রশিদ জানান, নোচনাহার আমবাজার ও উপজেলার অন্যান্য আমবাজারকে কেন্দ্র করে স্থানীয় শত শত মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। গাছ থেকে আম নামানো, প্যাকেজিং, ক্যারেট তৈরি এবং পরিবহনের কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন স্থানীয় শ্রমিকেরা। এ ছাড়া ক্রেতা-বিক্রেতাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং যানজট এড়াতে ইতোমধ্যে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, উপজেলায় ১০ হাজার ৬৫০ হেক্টর জমিতে আমবাগান রয়েছে। এ বছর আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১ লাখ ৪৯ হাজার ১০০ মেট্রিক টন। এর মধ্যে প্রায় ১ মেট্রিক টন আম বিদেশে রপ্তানি করা হবে।
আবহাওয়া স্বাভাবিক থাকলে এবং বাজারদর অনুকূলে থাকলে চলতি মৌসুমে নোচনাহার বাজার ও উপজেলার বিভিন্ন আড়ত থেকে প্রায় ১ হাজার ৪৩ কোটি ৭০ লাখ টাকার আম বাণিজ্য হবে বলে আশা প্রকাশ করেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মামুনুর রশিদ।
আরইউ/আরএন