মাদকের স্বর্গরাজ্যখ্যাত রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া পুড়াভিটায় মাদকবিরোধী অভিযানের সময় মোবাইল কোর্টের ওপর হামলা চালিয়ে হ্যান্ডকাপ পরানো এক আসামিকে ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় দুজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং আরও ২৫-৩০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গোয়ালন্দ ঘাট থানার তদন্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাশেদুল ইসলাম।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক মো. রাসেল আলী এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশে গত ২১ জুন গোয়ালন্দ ঘাট থানায় মামলাটি দায়ের করেন।
এর আগে ২০ জুন বিকেল ৪টা থেকে ৫টা পর্যন্ত দৌলতদিয়া পুড়াভিটার এশিয়া বোর্ডিং এলাকায় মাদকবিরোধী মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন গোয়ালন্দ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. মুনতাসির হাসান খান। এতে অংশ নেয় রাজবাড়ী জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের একটি দল।
অভিযান চলাকালে আশীষ চন্দ্র শীল (২৬), পিতা—মৃত আনন্দ চন্দ্র শীল, গ্রাম বেলিশ্বর, থানা ধামরাই, জেলা ঢাকা—কে গাঁজাসহ হাতেনাতে আটক করা হয়। পরে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় তাকে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ১০০ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।
এ সময় পুড়াভিটার চিহ্নিত মাদক বিক্রেতা বেবীর ছেলে ফয়সাল (২৪)-কে হেরোইন ও নগদ টাকাসহ আটক করে হ্যান্ডকাপ পরানো হয়। তবে ভ্রাম্যমাণ আদালতে সাজা প্রদানের প্রস্তুতিকালে একদল মাদক কারবারি ও তাদের সহযোগী আকস্মিকভাবে মোবাইল কোর্টের ওপর হামলা চালায়। হামলাকারীরা হ্যান্ডকাপ পরা ফয়সালকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, ফয়সালের কাছ থেকে চার পুরিয়া হেরোইন উদ্ধার করা হয়েছিল। তাকে আটক করার পর প্রায় ২৫-৩০ জন ব্যক্তি সংঘবদ্ধভাবে মোবাইল কোর্টে হামলা চালিয়ে তাকে ছিনিয়ে নেয়। এ সময় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের একজন এসআই ও একজন এএসআই আহত হন। পরে তারা রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।
এ বিষয়ে গোয়ালন্দ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. মুনতাসির হাসান খান বলেন, “ঘটনার বিষয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর গোয়ালন্দ ঘাট থানায় মামলা দায়ের করেছে। আশা করি পুলিশ দ্রুত অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনবে। মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
এসআই/এসআর