লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটনকেন্দ্র আলেকজান্ডার মেঘনা বিচ। হাজারো দর্শনার্থীর পদচারণায় মুখরিত এ স্থানটিতে এখন ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে অবৈধ দোকানপাট। ব্লক দিয়ে বাঁধানো মেঘনা নদীর তীরের ওপর দর্শনার্থীদের চলাচলের জায়গা দখল করে গড়ে ওঠা এসব দোকান পর্যটকদের যাতায়াত ও পরিবেশের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বেড়িবাঁধের ওপর স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী চক্র অবৈধভাবে দোকানপাট ও টেবিল বসিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করছে। এতে দর্শনার্থীদের চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। মূল বেড়িবাঁধের ঢালু অংশ ঘেঁষে চটপটি, ফুচকা, চা ও খেলনার অসংখ্য দোকান গড়ে তোলা হয়েছে। নদীতীরবর্তী ও উপকূলীয় এলাকায় যেকোনো ধরনের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে সরকারের কঠোর নির্দেশনা থাকলেও এখানে তা মানা হয়নি।
দোকানগুলোর কারণে সৃষ্টি হওয়া ভিড়ে প্রায়ই দর্শনার্থীদের নদীর তীরঘেঁষা ব্লকের ওপর দিয়ে চলাচল করতে হয়। এতে তাদের নদীতে পড়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে, পর্যটনকেন্দ্রটিতে পর্যাপ্ত ডাস্টবিন না থাকায় দোকানগুলোর বর্জ্য সরাসরি মেঘনা নদী ও আশপাশের এলাকায় ফেলে দেওয়া হচ্ছে। ফলে পর্যটন এলাকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
আবুল কালাম নামের এক দর্শনার্থী বলেন, “চলাচলের জায়গায় দোকান বসানো হয়েছে। ছোট ছোট ছেলেমেয়েদের নিয়ে খুব আতঙ্কে থাকি। ব্লকের ওপর থেকে বাচ্চারা ছিটকে পড়লে সরাসরি মেঘনা নদীতে পড়ে যেতে পারে।”
দর্শনার্থী আরিফ বলেন, “মানুষের চলাচলের পথ দখল করে দোকান বসানো হয়েছে। বিষয়টি দেখতে খুব খারাপ লাগে। এতে পরিবেশও নষ্ট হচ্ছে। প্রশাসনের উচিত দ্রুত এসব দোকানপাট সরিয়ে দেওয়া।”
দোকানদার আলাউদ্দিন ও জুয়েল জানান, এখানে একটি সিন্ডিকেট চক্র রয়েছে। তাদের ম্যানেজ করেই সবাই দোকান নির্মাণ করেছেন।
রামগতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নিলুফা ইয়াসমিন নিপা বলেন, “দর্শনার্থীদের চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে এমন কোনো প্রতিবন্ধকতা নদীর তীরে রাখা যাবে না। চলাচলের জায়গায় গড়ে তোলা অবৈধ দোকানপাট উচ্ছেদ করা হবে।”
আরএম/আরএন