কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে বাড়ছে নদ-নদীর পানি। দেখা দিয়েছে বন্যার আশঙ্কা। শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন নদ-নদীতীরবর্তী মানুষ।
বর্ষায় গত কয়েকদিন ধরে কখনো একটানা, কখনো মুষলধারে বৃষ্টি হচ্ছে। লোকালয় থেকে পানি নেমে টইটম্বুর হয়ে গেছে পাশবর্তী খাল-বিল ও নদ-নালা। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে উজান থেকে নেমে আসা পানির ঢল। এতে প্রতিনিয়ত বৃদ্ধি পাচ্ছে নদ-নদীর পানির উচ্চতা। পানি তীব্র স্রোতে প্রবাহিত হচ্ছে। স্ফীত পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে তীরবর্তী চরাঞ্চলগুলো।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্যানুযায়ী, দুধকুমার নদের পানি পাটেশ্বরী পয়েন্টে বিপদসীমার ৫৭ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে এবং ব্রহ্মপুত্র নদের পানি নুনখাওয়া পয়েন্টে ১ দশমিক ৬৭ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এভাবে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে খুব দ্রুতই তা বিপদসীমা অতিক্রম করে ব্রহ্মপুত্র, দুধকুমার, গঙ্গাধর, সংকোশ ও ফুলকুমার নদের দু’কূল ছাপিয়ে লোকালয়ে প্রবেশ করবে। দেখা দেবে বন্যা।
সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ইতোমধ্যে তলিয়ে যাচ্ছে বল্লভেরখাসের ফান্দের চর, বামনডাঙ্গার চর লুছনি, শামছুলের চর, কেদারের চর বিষ্ণুপুর, কাচাকাটার ধনিরামপুর-শোলমারি, নারায়ণপুরের ঝাউকুটি, মাঝিয়ালীসহ উপজেলার ১৪টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার বিভিন্ন চরাঞ্চল।
বামনডাঙ্গার আয়নালের ঘাট এলাকার আব্দুল ওহাব, অলিদ হাসান, ইমান আলী, মাঝিয়ালীর আলী হোসেন এবং শোলমারীর জিয়াউল হক জানান, এভাবে পানি বাড়তে থাকলে বন্যা দেখা দেবে। তখন তাদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হবে। তলিয়ে যাবে রাস্তা-ঘাট, ঘরবাড়ি ও রোপা আমনের বীজতলা। আকাশ ভালো হলে কিছুটা স্বস্তি মিলতে পারে, কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে তা মনে হচ্ছে না। তারা শঙ্কিত।
কুড়িগ্রাম কৃষি ও আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র জানান, আপাতত আবহাওয়া এমনই থাকবে। জুনের শেষ দিন পর্যন্ত কম-বেশি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান জানান, নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলেও তা এখনো বিপদসীমার নিচে রয়েছে। তবে চরাঞ্চলের নিচু এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
কেএস/আরএন