📍 ঢাকা 📅 মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬, ৯ আষাঢ় ১৪৩৩
শিরোনাম:
নওগাঁয় ১০ মাস পর কবর থেকে শিশুর লাশ উত্তোলন
✎ অবজারভার অনলাইন ডেস্ক
⏲ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৩ জুন, ২০২৬, ৫:২৬ পিএম
X Advertisement

নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার আলোচিত দুই শিশুর রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় আদালতের নির্দেশে ১০ মাস পর কবর থেকে এক শিশুর মরদেহ উত্তোলন করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার বিনোদপুর পশ্চিমপাড়া গ্রামের পারিবারিক কবরস্থান থেকে তিন বছর বয়সী শিশু নাঈমের মরদেহ উত্তোলন করে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

স্থানীয় বাসিন্দা ও নিহত শিশুর স্বজনদের দাবি, এটি কোনো সাধারণ পানিতে ডুবে মৃত্যুর ঘটনা নয়; বরং পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড হতে পারে। তাদের অভিযোগ, একটি কিশোরীকে ধর্ষণের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে কেউ প্রতিশোধমূলকভাবে শিশু দুটিকে হত্যা করে থাকতে পারে।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ১৬ জুলাই উপজেলার একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ওয়াশরুমে ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরীকে ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনার ভিডিও ধারণ করেন নিহত নাঈমের বড় ভাই নাহিদ ইসলাম সাগর। পরে ভিডিওটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে অভিযুক্ত ব্যক্তি ও তার সহযোগীরা সাগরের পরিবারকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

স্বজনদের ভাষ্য, ওই ঘটনার ধারাবাহিকতায় গত বছরের ১ সেপ্টেম্বর সকালে নাঈম ও তার খেলার সাথী পাঁচ বছর বয়সী আরাফাত নিখোঁজ হয়। পরে একটি পুকুর থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরিবারের দাবি, শিশু দুটিকে শ্বাসরোধে হত্যা করে পুকুরে ফেলে দেওয়া হয়েছিল।

নিহত নাঈমের পরিবারের অভিযোগ, মরদেহ উদ্ধারের সময় তার গলায় আঘাতের চিহ্ন ছিল। এছাড়া পানিতে ডুবে মৃত্যুর ক্ষেত্রে শরীরে যে ধরনের আলামত থাকার কথা, তা পাওয়া যায়নি বলেও দাবি করেন তারা। ঘটনার পর এক সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে ভেজা কাপড় পরে দ্রুত এলাকা ত্যাগ করতে দেখা যায় বলেও অভিযোগ রয়েছে।

পরিবারের সদস্যরা জানান, ঘটনার পর স্থানীয় থানায় একাধিকবার অভিযোগ করেও তারা প্রত্যাশিত সহযোগিতা পাননি। পরে আদালতের নির্দেশে একটি মামলা দায়ের করা হয়। মামলাটি প্রথমে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) তদন্ত করলেও দীর্ঘ সময়েও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি না হওয়ায় বাদীপক্ষ নারাজি আবেদন করে। এর পর আদালত মামলাটির তদন্তভার সিআইডির কাছে হস্তান্তর করেন।

মঙ্গলবার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহ মো. রাশেদের উপস্থিতিতে সিআইডি, থানা পুলিশ এবং মহাদেবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসকদের সমন্বয়ে মরদেহ উত্তোলনের কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ পাঠানো হয়।

নিহত শিশুর মা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমার সন্তানদের যারা হত্যা করেছে, আমি তাদের বিচার চাই। আমরা গরিব মানুষ বলে কি আমাদের সন্তানের জীবনের কোনো মূল্য নেই? আমরা কি ন্যায়বিচার পাব না?”

উল্লেখ্য, গত মার্চ মাসে দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে ঘটনাটি নিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের পর বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উচ্চপর্যায়ে গুরুত্ব পায়। তবে দীর্ঘ সময় পার হলেও এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন নিহতদের স্বজনরা।

মরদেহ উত্তোলনের ঘটনায় এলাকায় নতুন করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। দ্রুত তদন্ত শেষ করে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন এবং দায়ীদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

কেএইচ /আরএন

সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
আরো দেখুন

Published by the Editor on behalf of the Observer Ltd. from Globe Printers, 24/A, New Eskaton Road, Ramna, Dhaka.
E-mail: online@dailyobserverbd.com mailobserverbd@gmail.com
🔝