নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে ডিবি পুলিশের পরিচয়ে এক কাপড় ব্যবসায়ীর বাড়িতে হামলা, আসবাবপত্র ভাঙচুর এবং নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার লুটের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ব্যবসায়ী বাদী হয়ে গতকাল মঙ্গলবার সকালে সোনারগাঁও থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। এর আগে গত সোমবার সকালে উপজেলার জামপুর ইউনিয়নের বুরুমদী গ্রামের রিয়াদ কবিরের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার সময় হামলাকারীরা একটি আইডি কার্ড ফেলে যায়।
জানা যায়, উপজেলার জামপুর ইউনিয়নের বুরুমদী গ্রামের ইকবাল কবিরের ছেলে রিয়াদ কবিরের বাড়িতে একই এলাকার পিয়ার হোসেন, মাসুম, শফিকুল ইসলাম, আল-আমিন, লিটন হোসেন, মো. হোসেনসহ আরও ৪-৫ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি গত সোমবার হামলা চালায়। এ সময় তারা নিজেদের ডিবি পুলিশের সদস্য পরিচয় দিয়ে ব্যবসায়ী রিয়াদ কবিরকে মারধর করে। একপর্যায়ে বাড়িতে মাদকদ্রব্য রয়েছে দাবি করে ঘরবাড়ি তল্লাশি চালায়। তল্লাশির নামে আসবাবপত্র তছনছ করে নগদ ৪ লাখ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে যায় বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে মামলা ও গ্রেপ্তারের হুমকি দিয়ে তারা চলে যায়।
হামলাকারীরা চলে যাওয়ার সময় একটি আইডি কার্ড ফেলে যায়। ওই আইডি কার্ডে অজয় কুমার জয় নামে একজনের পরিচয় পাওয়া যায়। সেখানে পদবি হিসেবে ‘সিপাহী’, প্রতিষ্ঠান হিসেবে ‘ডিপার্টমেন্ট অব নারকোটিকস কন্ট্রোল, বাংলাদেশ’, আইডি নম্বর ৪৯১৩২৫ এবং জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর উল্লেখ ছিল। পরে শরীফ হোসেন নামে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের এক সিপাহী পরিচয়ে একজন ফোন করে আইডি কার্ড ফেরত দেওয়ার জন্য হুমকি দেন বলে অভিযোগ করেন রিয়াদ কবির।
এ বিষয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সিপাহী শরীফ হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি দাবি করেন, আইডি কার্ড ফেরতের জন্য কাউকে ফোন দেননি। অভিযানের বিষয়েও তিনি কিছু জানেন না বলে জানান।
ব্যবসায়ী রিয়াদ কবির বলেন, পূর্বশত্রুতার জেরে এলাকার একটি চক্র পুলিশের সোর্স ব্যবহার করে তার পরিবারকে হয়রানি করার উদ্দেশ্যে বাড়িতে হামলা চালিয়েছে। মাদক উদ্ধারের নামে ঘরবাড়ি তছনছ করা হয়েছে এবং নগদ ৪ লাখ টাকা লুট করা হয়েছে। ভবিষ্যতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ও হয়রানি থেকে রক্ষা পেতে তিনি থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযুক্ত পিয়ার হোসেন এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, গত তিন দিন ধরে তিনি ওই এলাকায় যাননি। কেউ তাকে সেখানে দেখেছে—এমন প্রমাণও দিতে পারবে না। তবে তিনি শুনেছেন, রিয়াদ ও তার পরিবারের লোকজন প্রশাসনের সদস্যদের মারধর করেছে।
সোনারগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. গোলাম সারোয়ার বলেন, অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে। ডিবি পুলিশের পরিচয় ব্যবহার করে হয়রানি করা গুরুতর অপরাধ। প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এমএইচ/আরএন