বাংলাদেশে নদীর প্রকৃত সংখ্যা এখনো নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি বলে দাবি করেছেন পরিবেশ ও নদী বিষয়ক গবেষকরা। একই সঙ্গে নদী দখল, মাটি দূষণ, বায়ু ও শব্দদূষণ এবং পরিবেশ ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তারা।
শুক্রবার (১৯ জুন) জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘প্রাণ-প্রকৃতি-পরিবেশ-প্রতিবেশ রক্ষা জাতীয় কমিটি’ আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন বক্তারা।
সংবাদ সম্মেলনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের সভাপতি পরিকল্পনাবিদ আরিফুল ইসলাম। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সংগঠনের মুখপাত্র ইবনুল সাঈদ রানা।
লেখক ও নদী গবেষক মাহবুব সিদ্দিকী বলেন, দেশে নদীর সংখ্যা নিয়ে এখনো বিভ্রান্তি রয়েছে। নদী ব্যবস্থাপনা ও আন্তঃসীমান্ত নদী বিষয়ে আন্তর্জাতিক সনদে অংশগ্রহণের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, নদী রক্ষায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, নদী দখল ও নদী ব্যবস্থাপনার সঙ্গে জড়িত বিভিন্ন অনিয়ম বন্ধে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। একই সঙ্গে পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে পরিবেশগত প্রভাবও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করার আহ্বান জানান তিনি।
প্রাকৃতিক কৃষি আন্দোলনের প্রতিনিধি দেলোয়ার হোসেন বলেন, মাটির উর্বরতা ও পুষ্টিগুণ ক্রমাগত কমে যাচ্ছে। জিংক, ক্যালসিয়াম ও জৈব উপাদানের ঘাটতি কৃষি উৎপাদন এবং মানুষের পুষ্টির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের ডিন অধ্যাপক ড. আহমদ কামরুজ্জামান মজুমদার বলেন, বায়ু ও শব্দদূষণ জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠেছে। এর ফলে মানুষের গড় আয়ু কমে যাচ্ছে এবং বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে।
শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ আলী বলেন, উপকূলীয় নদীর তীরে শিল্প ও বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের কারণে নদীর জীববৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিশেষ করে ইলিশসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছের ওপর এর প্রভাব পড়ছে।
ইনস্টিটিউট অব লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজির অধ্যাপক ড. সবুর আহমেদ খাদ্যে ভারী ধাতুর উপস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ট্যানারি স্থানান্তরের পর দূষণের সমস্যা এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় ছড়িয়ে পড়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট শফিকুর রহমান বলেন, দেশে নদীর সংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন তথ্য রয়েছে। কোনো হিসাবে নদীর সংখ্যা ২ হাজার ৪১০, সরকারি হিসাবে ৪০৫ এবং অন্য এক হিসাবে ১ হাজার ৪১৫টি বলা হলেও এখনো এ বিষয়ে চূড়ান্ত ও গেজেটভুক্ত তথ্য নেই।
তিনি অভিযোগ করেন, পরিবেশ সুরক্ষার ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে পরিকল্পনাহীন উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে। এর ফলে প্রাণ-প্রকৃতি ও পরিবেশ মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছে।
তিনি আরও জানান, তথ্য অধিকার আইনের মাধ্যমে পাওয়া তথ্যে দেশে ৭ হাজার ৮৯৭টি ইটভাটার তথ্য পাওয়া গেছে, যার মধ্যে ৫ হাজার ৯২টির পরিবেশগত ছাড়পত্র নেই।
সংবাদ সম্মেলনে পরিবেশ সংরক্ষণ, নদী রক্ষা এবং দূষণ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান বক্তারা।
বিজ্ঞপ্তি/টিএস