সাতক্ষীরায় পৃথক ঘটনায় তিন ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (১৯ জুন) জেলার সদর উপজেলা, কলারোয়া ও আশাশুনি উপজেলা থেকে মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়। পরে সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহগুলো সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ধুলিহর বেড়বাড়ি গ্রামে নিজ ঘর থেকে অমিত হাসান (২৫) নামের এক যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি ওই গ্রামের মোসলেম সরদারের ছেলে।
স্থানীয়দের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শুক্রবার সকালে পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে। সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাসুদুর রহমান জানান, অমিত হাসান অনলাইন জুয়ায় আসক্ত ছিলেন। এ কারণে তিনি দেনাগ্রস্ত হয়ে পড়েন এবং পরে মাদকাসক্ত হয়ে ওঠেন। ধারণা করা হচ্ছে, এসব কারণেই তিনি আত্মহত্যা করেছেন।
এদিকে, কলারোয়া উপজেলার জালালাবাদ গ্রামের একটি মোবাইল টাওয়ারের পাশে মেহেদী হাসান (৩০) নামের এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি উপজেলার কয়লা গ্রামের মিজানুর রহমানের ছেলে এবং পেশায় মধু ব্যবসায়ী।
কলারোয়া থানার ওসি মো. শাহিন জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, অন্য কোনো স্থানে হত্যার পর মরদেহ টেনে-হিঁচড়ে ডোবার মধ্যে ফেলে দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করতে পুলিশ কাজ করছে।
অপরদিকে, আশাশুনি উপজেলার বুধহাটা ইউনিয়নের বেউলা লম্বাডাঙ্গা খাল থেকে আব্দুর রহিম (৬৫) নামের এক বৃদ্ধের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তিনি উপজেলার শ্বেতপুর গ্রামের ফরিদ উদ্দীনের ছেলে।
আশাশুনি থানার ওসি শামীম আহমেদ খান জানান, আব্দুর রহিম দীর্ঘ প্রায় ১৪ বছর ধরে মানসিক ভারসাম্যহীনতায় ভুগছিলেন। তাকে অধিকাংশ সময় শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা হতো। তবে শারীরিক ও মানসিক অবস্থার উন্নতি হলে মাঝে মাঝে তিনি ভোরে নামাজ পড়তে বাড়ি থেকে বের হতেন। শুক্রবার ভোরেও তিনি নামাজ পড়তে বের হওয়ার পর আর বাড়ি ফেরেননি। পরে খাল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এমজেডআর/আরএন