বান্দরবানের রুমা উপজেলার ১ নম্বর পাইন্দু ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের পাইন্দু হেডম্যান পাড়ায় বসবাসরত প্রতিবন্ধী মা-মেয়ে আছোমা মার্মা ও তাঁর কন্যা উম্যানু মার্মার মানবেতর জীবনসংগ্রামের সংবাদ জাতীয় দৈনিক দ্য ডেইলি অবজারভার-এ প্রকাশিত হওয়ার পর তাঁদের খোঁজ নিতে ছুটে যান রুমা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লিজা আক্তার বিথী।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ইউএনও পাইন্দু হেডম্যান পাড়ায় গিয়ে প্রতিবন্ধী মা-মেয়ের বাড়ি পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি তাঁদের খোঁজখবর নেন এবং তাৎক্ষণিকভাবে চাল, ডাল, তেল, মসলা ও বিভিন্ন শুকনো খাদ্যসামগ্রী প্রদান করেন।
পরিদর্শনকালে ইউএনও জানান, পরিবারটির দীর্ঘমেয়াদি জীবিকার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে তাঁদের দুটি শুকর দেওয়া হবে, যাতে গৃহপালিত প্রাণী পালন করে তাঁরা কিছুটা হলেও স্বাবলম্বী হতে পারেন। পাশাপাশি ১৩ বছর বয়সী প্রতিবন্ধী কন্যা উম্যানু মার্মার জন্য প্রতিবন্ধী ভাতার ব্যবস্থা করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।
এরপর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পাইন্দু হেডম্যান পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন করেন। বিদ্যালয়ে উপস্থিত তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তিনি আন্তরিকভাবে মতবিনিময় করেন এবং গণিত ও ইংরেজি বিষয়ে পাঠদান করেন। পাশাপাশি সহজে শেখার বিভিন্ন কৌশলও শিক্ষার্থীদের সামনে তুলে ধরেন।
ইউএনওকে কাছে পেয়ে বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিক্ষার্থীরা আনন্দিত হয়ে ওঠে। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সময় কাটানোর পর তিনি বিদ্যালয়ের জন্য দ্রুত খেলাধুলার বিভিন্ন সামগ্রী সরবরাহের আশ্বাস দেন।
পরিদর্শন শেষে পাইন্দু হেডম্যান পাড়া থেকে ফেরার পথে ইউএনও একটি জরাজীর্ণ বাঁশ ও ছনের ঘর দেখতে পান। তিনি সেখানে থেমে ঘরটির মালিকের বিষয়ে জানতে চাইলে স্থানীয় ইউপি সদস্য ও গ্রামবাসীরা পরিবারের অসহায় অবস্থার কথা তুলে ধরেন। বিষয়টি শুনে তিনি ঘরের মালিককে একটি আবেদনপত্র জমা দেওয়ার পরামর্শ দেন এবং প্রয়োজনীয় সহায়তার বিষয়টি বিবেচনা করার আশ্বাস দেন।
পাইন্দু হেডম্যান পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সুকুমার চাকমা বলেন, “দুর্গম পাহাড়ি এলাকার বিদ্যালয়গুলোতে এ ধরনের পরিদর্শন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইউএনও মহোদয় আমাদের বিদ্যালয়ে এসে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সময় কাটানোয় আমরা খুবই আনন্দিত।”
ইউএনওর এমন মানবিক উদ্যোগে এলাকাবাসীর মধ্যে ব্যাপক সাড়া পড়েছে। গ্রামবাসীরা জানান, দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলের সাধারণ মানুষের সমস্যা সরেজমিনে দেখে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার এই মানসিকতা সত্যিই প্রশংসনীয়।
স্থানীয়দের ভাষ্য, “আমাদের এই পাহাড়ে এমন মানবিক ও জনবান্ধব ইউএনওর প্রয়োজন ছিল। তিনি মানুষের কষ্ট বোঝেন এবং আন্তরিকভাবে সহযোগিতা করার চেষ্টা করেন। তাঁর এই উদ্যোগে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত ও কৃতজ্ঞ।”
গ্রামবাসীরা আশা প্রকাশ করেন, প্রতিবন্ধী মা-মেয়েসহ এলাকার অন্যান্য অসহায় মানুষের কল্যাণে প্রশাসনের এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
ইউএম/আরএন