খুলনা নগরীর দৌলতপুর এলাকায় একটি মসজিদের ভেতরে ফজরের নামাজ শেষে দুই মুসল্লিকে গুলি করার ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। রোববার ভোর সাড়ে ৫টার পর দৌলতপুর ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির জামে মসজিদে এ ঘটনা ঘটে।
গুলিবিদ্ধ দু'জন হলেন- লোকমান ও আলম। তাদের মধ্যে লোকমানের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ফজরের নামাজ আদায় শেষে মুসল্লিরা যখন মসজিদে অবস্থান করছিলেন, তখন কয়েকজন অজ্ঞাত দুর্বৃত্ত হঠাৎ মসজিদের ভেতরে প্রবেশ করে এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়তে শুরু করে। এতে লোকমান ও আলম গুরুতর আহত হন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, লোকমান নামাজ শেষে মসজিদের ভেতরে বসে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করছিলেন। ঠিক সেই সময় হামলাকারীরা গুলি চালায়। গুলির শব্দে মসজিদে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় মুসল্লিরা দ্রুত আহতদের খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক লোকমানের শারীরিক অবস্থাকে সংকটাপন্ন বলে উল্লেখ করেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় স্থানান্তরের পরামর্শ দেন। অপর আহত আলম বর্তমানে খুমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ঘটনার পর পরই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করে। মসজিদের ভেতরে এমন হামলার ঘটনায় এলাকাজুড়ে উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত হামলাকারীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।
দৌলতপুর থানার তদন্ত কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম বলেন, 'ফজরের নামাজ শেষে কয়েকজন দুর্বৃত্ত মসজিদের ভেতরে প্রবেশ করে গুলি চালায়। এতে দুই ব্যক্তি আহত হন। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে কাজ করছে। হামলার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে ঘটনাটিকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। হামলার পেছনে পূর্ব শত্রুতা, আধিপত্য বিস্তার কিংবা অন্য কোনো উদ্দেশ্য রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষ হলে ঘটনার প্রকৃত কারণ ও জড়িতদের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মসজিদের মতো পবিত্র স্থানে এ ধরনের সশস্ত্র হামলার ঘটনায় নগরবাসীর মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। স্থানীয়রা দ্রুত অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এসএম/এমএ