জ্বালানি তেল সংকটে সাড়া দেশের ন্যায় চরফ্যাশনের দুটি তেল পাম্পে পেট্রোল, অকটেনে ও ডিজেলের জন্য চরম সংকটে ভোগান্তি ও বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
ভোররাত থেকে ভোলা-চরফ্যাশন সড়কে তেলের জন্য দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারী, এনজিও কর্মী, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষকে। ঘন্টার পর ঘন্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও তেল সংগ্রহ করতে না পেরে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন নানা পেশার মানুষ।
সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সড়কের এক পাশে রাতের আধার বা প্রখর রোদে লাইনে দাঁড়িয়ে তেলের জন্য অপেক্ষা করেন অনেকে। নির্দিষ্ট সময় পর তেলের পাম্প বন্ধ হয়ে গেলে লাইনে দাঁড়িয়েও অনেককে খালি হাতে ফিরতে হয়। আবার অনেকে দীর্ঘ অপেক্ষার পর তেল নিয়ে হাসি মুখে ফিরেন। পেট্রোল পাম্প ২টিতে মোটরসাইকেল ও বিভিন্ন যানবাহনের দীর্ঘ লাইন চোখে পড়ার মতো।
লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা কয়েকজন ক্রেতা জানান, প্রখর রোদে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে ঘন্টার পর ঘন্টা। জরুরি অবস্থার রোগীরা হাসপাতালে এবং কর্মজীবীরা কর্মস্থলে পৌঁছাতে পারছেন না সঠিক সময়। দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও তেল না পেয়ে হতাশ হয়ে বাড়ি ফিরছেন অনেকেই। কেউ কেউ মনে করেন, তেল বিতরণ এবং মজুদে অনিয়ম চলছে। তাই এ বিষয়ে প্রশাসনের আরো বেশি তদারকির অনুরোধ ক্রেতাদের।
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরাইলের হামলার পর বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম হুহু করে বাড়তে থাকে। বিশেষ করে, জ্বালানি স্থাপনায় পাল্টাপাল্টি হামলা এবং হরমুজ প্রণালির চলাচল নিয়ন্ত্রণে আন্তর্জাতিক বাজারে ক্রুড অয়েলের দাম শত ডলার ছাড়িয়ে গেছে। বেড়েছে তরলকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) দাম। ইরান আক্রমণের পর গত এক মাসে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৩১ শতাংশ এবং এলএনজির দাম ৬০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। এর প্রভাব সরাসরি পড়েছে বাংলাদেশে।
চরফ্যাশন মেসার্স ব্রাদার্স ফিলিং স্টেশনের মালিক পক্ষ গোলাম সারওয়ার জানায়, প্রতিদিন যা তেল আসে তা ইউএনও ও এসিল্যান্ডের পরামর্শ ক্রমে রেশন পদ্ধতিতে তেল বিতরণ করা হয়। প্রতিদিন এএনডিসি, এসিল্যান্ড এবং কোম্পানি তেলের হিসাব নেয়। প্রতিটি মোটরসাইকেলে ২০০ টাকার, মাইক্রোবাসে, গাড়িতে ১০ লিটার এবং প্রাইভেট কারে ১০ লিটার করে তেল দেওয়া হয়। এই উপজেলায় যেই পরিমাণ তেলের চাহিদা রয়েছে সেই তুলনায় বরাদ্দ পাওয়া যাচ্ছে অত্যন্ত সামান্য। এর ওপর রেশনিং পদ্ধতিতে তেল সরবরাহ করায় সাধারণ গ্রাহকদের ভোগান্তি আকাশচুম্বী হয়েছে।
পাম্প মালিকদের দাবি, চাহিদাপত্র পাঠিয়েও সময়মতো তেল পাওয়া যাচ্ছে না। ডিপো থেকে সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে এই সংকট আরও ঘনীভূত হওয়ার আশঙ্কা করছেন।
চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট এমাদুল হোসেন জানান, দুই-এক দিনের মধ্যেই সংকট দ্রুত কেটে যাবে।
এসএফ/এসআর