ENGLISH EPAPER 📍 ঢাকা 📅 শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩
শিরোনাম
Advertisement
পঞ্চগড়ে ইউএনও'র বিরুদ্ধে ঠিকাদারি করার অভিযোগ
✎ অবজারভার প্রতিনিধি
⏲ প্রকাশিত: শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৬, ৫:৪২ পিএম
X

পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. রবিউল ইসলামের বিরুদ্ধে উপজেলার উন্নয়নমূলক কাজের টেন্ডার না দিয়ে নিজেই কাজ বাস্তবায়ন করার অভিযোগ উঠেছে। ইতিমধ্যে ভুয়া বিল-ভাউচার দিয়ে ১ কোটি ৪১ লাখ ৬৩ হাজার টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। এ নিয়ে জেলা জুড়ে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। তবে বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন জেলা প্রশাসন।

তথ্যানুযায়ী, ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে বিশেষ বরাদ্দে উপজেলা কমপ্লেক্সের বিভিন্ন অফিস, বাসাবাড়ি, গ্যারেজ, অভ্যন্তরীণ ড্রেন, রাস্তা, ঘাটলা ইত্যাদি মেরামতের লক্ষ্যে ৫০ লাখ টাকা, অনগ্রসর উপজেলা বিবেচনায় উপজেলা উন্নয়ন সহায়তা খাতে ৫০ লাখ টাকা এবং বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির চতুর্থ কিস্তিতে ৪১ লাখ ৬৩ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয় স্থানীয় সরকার বিভাগ। উপজেলা পরিষদ উন্নয়ন তহবিল ব্যবহার নির্দেশিকা, পিপিআর ও সরকারি বিধিবিধান অনুসরণপূর্বক অনুমোদিত প্রকল্প বাস্তবায়নে বরাদ্দকৃত এই অর্থ ব্যয় করার কথা।

স্থানীয় ঠিকাদারদের অভিযোগ, কোনো কিছুর তোয়াক্কা না করে উপজেলা নির্বাহী অফিসার নিজেই কেনাকাটা এবং মিস্ত্রি দিয়ে কাজ বাস্তবায়ন করছেন। টেন্ডার না করায় কয়েক লাখ টাকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়েছে সরকার। সেই সঙ্গে তারাও টেন্ডারে অংশগ্রহণ করতে না পেরে বঞ্চিত হয়েছেন।

জানা যায়, বরাদ্দকৃত অর্থ দিয়ে উপজেলা কমপ্লেক্সের বিভিন্ন অফিস, বাসাবাড়ি, গ্যারেজ, অভ্যন্তরীণ ড্রেন, ঘাটলা, শিশু পার্ক সংস্কার, অডিটোরিয়ামে এসি স্থাপন, রাস্তা সংস্কার ও নির্মাণ এবং আশ্রয়ণের ঘর সংস্কার ও নির্মাণ করার কথা।

সম্প্রতি সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার শিশু পার্ক সংস্কারে লেক নির্মাণ, বিভিন্ন খেলার সামগ্রী স্থাপন চলমান ছিল। উপজেলা নির্বাহী অফিসারের গাড়ি রাখার গ্যারেজ, ড্রাইভারের রুম নির্মাণ ও বিভিন্ন সংস্কারের কথা জানান নির্মাণশ্রমিকরা। এছাড়া অডিটোরিয়ামে এসি স্থাপনের কথাও জানা যায়।

নির্মাণ মিস্ত্রি মালাকার প্রদীপ বলেন, “শিশু পার্কের গেটের দুটি ড্রাগন, লেকের জন্য বিভিন্ন কারুকার্য, পার্কের কিছু সংস্কার কাজের জন্য ইউএনও স্যারের সঙ্গে এক লাখ টাকা চুক্তি হয়েছে। প্রায় ২০ দিন হলো কাজ শুরু করেছি।”

আরেক নির্মাণ মিস্ত্রি রশিদুল ইসলাম বলেন, “উপজেলা নির্বাহী অফিসারের গাড়ি রাখার গ্যারেজ, ড্রাইভারের রুম, পার্কের বিভিন্ন সংস্কার ও লেক নির্মাণে প্রায় দেড় মাস ধরে হাজিরা ভিত্তিতে কাজ করছি। অফিস থেকে হাজিরা পরিশোধ করছেন এও স্যার। মিস্ত্রি ৭০০ টাকা, লেবার ৫০০ টাকা হারে। প্রতিদিন ৫ থেকে ১০ জন কাজ করেন।”

উপজেলা প্রকৌশলী জগবন্ধু রায় বলেন, “বিশেষ বরাদ্দের অর্থের বিষয়ে এটা ইউএনও অফিসের এও সাহেব বলতে পারবেন। আমরা কিছু জানি না।”

অভিযুক্ত উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. রবিউল ইসলাম বলেন, “আমাদের কাজ করার কোনো সুযোগ নাই। ইউএনও'র যত কাজ জেলা-উপজেলায়। নিয়ম অনুযায়ী কাজ চলছে। পিআইসি, আরএফকিউ বা টেন্ডার করা হয়েছে। যারা ঠিকাদার, তারাই কাজ করছেন।”

জেলা প্রশাসক মোছা. শুকরিয়া পারভীন বলেন, বিষয়টি খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এসআইএস/এসআর



Advertisement
Loading...
Loading...
আরো দেখুন
সম্পাদক: ইকবাল সোবহান চৌধুরী
অবজারভার লিমিটেডের পক্ষে সম্পাদক কর্তৃক গ্লোব প্রিন্টার্স, ২৪/এ, নিউ ইস্কাটন রোড, রমনা, ঢাকা থেকে প্রকাশিত।
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:আজিজ ভবন (৩য় তলা), ৯৩, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা (সি/এ), ঢাকা-১০০০।

ফোন: পিএবিএক্স- ৪১০৫৩০০১-০৬; বিজ্ঞাপন: ৪১০৫৩০১২; ০১৭৯৩৩১৭৮২৯, ০১৫৫০৭০৭২৯১, ই-মেইল: [email protected], ‍[email protected] অনলাইন: ৪১০৫৩০১৪; ০১৫৫০৭০৭২৯৭ ই-মেইল: [email protected] ০১৫৫০৭০৭২৯৬
🔝